ফরিদপুরে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবককে গরম পানি ঢেলে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬ । ৬:৩০ পিএম

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবকের শরীরে গরম পানি ঢেলে গুরুতরভাবে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।

ভুক্তভোগী সোহেল মোল্লা (২৫) উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের ফলিয়া গ্রামের দরিদ্র দিনমজুর শাহজাহান মোল্লার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যার একটু আগে সহস্রাইল বাজারের একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

চায়ের দোকানদার বাবলু জানান, ওই সময় দোকানে বসে চা পান করছিলেন আক্তার খালাসি নামে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা ও তার কয়েকজন সঙ্গী। এসময় মানসিক ভারসাম্যহীন সোহেল হঠাৎ পেছন দিক থেকে এসে আক্তার খালাসিকে জড়িয়ে ধরে এবং হাত টানাটানি শুরু করে। এতে পরিস্থিতি উত্তেজিত হয়ে ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোহেলকে ছাড়াতে গিয়ে আক্তার খালাসি প্রথমে তাকে ধাক্কা দেন। একপর্যায়ে হাতে থাকা গরম চায়ের কেটলি দিয়ে আঘাত করলে কেটলির ফুটন্ত পানি সোহেলের শরীরে পড়ে যায়। এতে তার বুক থেকে শুরু করে পা পর্যন্ত অংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়।

ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

সোহেলের বাবা শাহজাহান মোল্লা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ডাক্তার ঢাকায় নিতে বলছে, কিন্তু আমার সেই সামর্থ্য নেই। কীভাবে ছেলের চিকিৎসা চালাবো বুঝতে পারছি না।” তিনি জানান, তার ছেলে একজন ভাতাপ্রাপ্ত বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যও।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আক্তার খালাসির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত জানান, আহত অবস্থায় সোহেলকে হাসপাতালে আনার পর বিষয়টি তারা জানতে পারেন। তিনি বলেন, “চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ঘটনাস্থল বোয়ালমারী থানার আওতাধীন হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারকে সেখানে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।”

তবে দরিদ্র পরিবারটি বর্তমানে চিকিৎসা নিয়েই ব্যস্ত থাকায় এখনো থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করতে পারেনি।

এদিকে, এমন নির্মম ঘটনার প্রতিবাদে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অসহায় পরিবারটির চিকিৎসা সহায়তায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন