ব্যস্ত শহুরে জীবন, কাজের চাপ, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা; সব মিলিয়ে আজকের মানুষের জীবনে হাসি যেন দিন দিন কমে আসছে। অথচ আমাদের আশপাশেই এমন কিছু মানুষ থাকেন, যারা ছোট্ট কোনো কথাতেই হেসে ওঠেন, আড্ডাকে প্রাণবন্ত করে তোলেন, নিজেরাও থাকেন হালকা মেজাজে।
অনেকেই তাদের দেখে মজা করে বলেন, ‘কথায় কথায় হাসে!’ কিন্তু এই সহজাত অভ্যাসটাই যে শরীর ও মনের জন্য কতটা উপকারী, তা হয়তো আমরা অনেকেই জানি না।
চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, প্রাণ খুলে হাসা শুধু আনন্দের বহিঃপ্রকাশ নয়, এটি শরীরের ভেতরে এক ধরনের প্রাকৃতিক থেরাপির মতো কাজ করে। হাসির প্রতিটি মুহূর্তে শরীরের ভেতরে শুরু হয় একের পর এক ইতিবাচক পরিবর্তন, যা দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। তাহলে জেনে নেওয়া যাক, আপনি যখন হাসেন তখন আপনার শরীরে ঠিক কী কী ঘটে।
১. পেশি শিথিল হয়, ব্যথা কমে
আপনি যখন প্রাণ খুলে হাসেন, তখন শরীরের শক্ত হয়ে থাকা পেশিগুলো ধীরে ধীরে শিথিল হতে শুরু করে। গবেষণায় দেখা গেছে, হাসির সময় শরীরে এমন কিছু রাসায়নিক নির্গত হয়, যা প্রাকৃতিক ‘পেইনকিলার’ হিসেবে কাজ করে। ফলে দীর্ঘদিনের ব্যথা বা অস্বস্তির ক্ষেত্রে সহ্যশক্তি বেড়ে যায়। যারা বেশি হাসেন, তাঁদের শরীর তুলনামূলকভাবে বেশি স্বাভাবিক ও কম জড়তাপূর্ণ থাকে।
২. হার্টের জন্য উপকারী
কথায় কথায় হাসলে সবচেয়ে বেশি উপকার পায় হৃদপিণ্ড। হাসির ফলে রক্তনালীগুলো প্রসারিত হয়, যার কারণে রক্ত চলাচল আরও মসৃণ হয়। এতে হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। সহজভাবে বলতে গেলে, হাসি আপনার হার্টের জন্য এক ধরনের অদৃশ্য সুরক্ষা কবচের মতো কাজ করে।
৩. স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়ায়
হাসি শুধু ঠোঁটের ব্যায়াম নয়, এটি মস্তিষ্কের জন্যও অত্যন্ত কার্যকর। হাসলে মস্তিষ্কে স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ কমে যায়, ফলে মানসিক চাপ ও অবসাদ দূরে থাকে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগে। যারা নিয়মিত হাসিখুশি থাকেন, তাঁদের মনে রাখার ক্ষমতা এবং কাজে মনোযোগ অন্যদের তুলনায় বেশি, এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
৪. মেদ ঝরানোর সহজ উপায়
জিমে গিয়ে ঘাম ঝরাতে যাদের অনীহা, তাদের জন্য সুখবর হলো, হাসিও হতে পারে শরীরচর্চার একটি বিকল্প। সমীক্ষা বলছে, টানা এক মিনিট প্রাণ খুলে হাসলে যে পরিমাণ ক্যালোরি খরচ হয়, তা প্রায় দশ মিনিট ব্যায়ামের সমান। পাশাপাশি হাসি শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক হার বাড়ায়, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক।
৫. ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে
যারা বেশি হাসেন, তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তিশালী হয়। লাফিং থেরাপির মাধ্যমে শরীরে অ্যান্টিবডির উৎপাদন বাড়ে, যা রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। এছাড়া যারা অনিদ্রার সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য হাসি হতে পারে একটি প্রাকৃতিক সমাধান। হাসি মনকে প্রশান্ত করে এবং ভালো ঘুমে সহায়তা করে।
শেষ কথা
কথায় কথায় হাসেন বলে কেউ যদি আপনাকে মজা করে, তাতে মন খারাপ করার কিছু নেই। বরং গর্বের সঙ্গেই বলতে পারেন, এই হাসিই আপনার সুস্থতা, মানসিক প্রশান্তি এবং দীর্ঘ জীবনের একটি বড় শক্তি। কারণ, আপনি যখন হাসছেন তখন আসলে আপনি নিজের শরীর ও মনকে সুস্থ রাখার কাজটাই করে যাচ্ছেন।
সূত্র : টিভি নাইন বাংলা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬ । ৭:৩২ এএম