জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে পড়েছে ফরিদপুর। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। মাত্র ১০০ টাকার পেট্রোল সংগ্রহের জন্য তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিশেষ করে ফরিদপুর ফিলিং স্টেশন ও প্রগতি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই সকাল থেকে অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত জ্বালানি পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীমিত সরবরাহের কারণে ফিলিং স্টেশনগুলোতে নির্দিষ্ট পরিমাণে—প্রতি মোটরসাইকেলে মাত্র ১০০ টাকার পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে। এতে করে স্বল্প পরিমাণ জ্বালানি নিতে গিয়েও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের।
ভুক্তভোগী হৃদয় মুন্সী নামের এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, “প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, তারপরও নিশ্চিত না পেট্রোল পাব কি না। ১০০ টাকার তেল দিয়ে তো দূরে যাওয়া সম্ভব না।”
করিম শেখ নামের আরেকজন চালক জানান, এই সংকটের কারণে তার দৈনন্দিন কর্মজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে, জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতেও। অনেকেই জরুরি কাজে বের হতে পারছেন না, আবার যারা পেশাগতভাবে মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভরশীল—যেমন ডেলিভারি কর্মী বা রাইড-শেয়ার চালক—তারা পড়েছেন সবচেয়ে বড় বিপাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন, পরিবহন সমস্যা কিংবা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে জ্বালানি বিতরণে সীমাবদ্ধতা থাকলে এমন সংকট তৈরি হতে পারে। তবে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় মোটরসাইকেল চালকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে—এমন আশাই করছেন ভুক্তভোগীরা।

মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬ । ৯:০৫ এএম