ব্যবসার বরকত নষ্ট করে যে ৭ কাজ?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬ । ৮:৫৫ এএম

ব্যবসা শুধু লাভ-ক্ষতির হিসাব নয়, এটি একটি আমানত, একটি ইবাদতও বটে। ইসলামে হালাল উপার্জনকে যেমন অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তেমনি সততা ও ন্যায়পরায়ণতার ওপরও দেওয়া হয়েছে কঠোর নির্দেশনা।

অনেক সময় দেখা যায়, ব্যবসায় সবকিছু ঠিকঠাক চললেও হঠাৎ করেই বরকত উঠে যায়। আয় থাকে, কিন্তু শান্তি থাকে না; বিক্রি হয়, কিন্তু উন্নতি আসে না।

এর পেছনে বড় কারণ হতে পারে কিছু গোপন গোনাহ বা অনৈতিক চর্চা, যা অজান্তেই আমাদের ব্যবসাকে গ্রাস করে ফেলে।

পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এমন কিছু কাজের ব্যাপারে স্পষ্ট সতর্কবার্তা এসেছে, যেগুলো ব্যবসার বরকত নষ্ট করে দেয় এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হয়। তাই একজন মুসলিম ব্যবসায়ীর জন্য জরুরি হলো, শুধু লাভের দিকে নয়, বরং হালাল-হারাম ও নৈতিকতার দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া। নিচে এমনই ৭টি কাজ তুলে ধরা হলো, যা থেকে বেঁচে থাকলে ব্যবসায় আসবে প্রকৃত বরকত ও কল্যাণ।

১. মাপে কম দেওয়া

আমাদের আশপাশের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মাপে কম দেওয়ার অভিযোগ শোনা যায়। অথচ পবিত্র কোরআনে এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘বহু দুর্ভোগ আছে তাদের, যারা মাপে কম দেয়, যারা মানুষের কাছ থেকে যখন মেপে নেয় পূর্ণমাত্রায় নেয় আর যখন অন্যকে মেপে বা ওজন করে দেয়, তখন কমিয়ে দেয়। তারা কি চিন্তা করে না, তাদেরকে জীবিত করে ওঠানো হবে? এক মহাদিবসে, যেদিন সমস্ত মানুষ রাব্বুল আলামিনের সামনে দাঁড়াবে।’ (সুরা মুতাফফিফিন : ১-৬)

২. পণ্যের মান নিয়ে প্রতারণা

অনেক সময় ক্রেতার অগোচরে ভালো পণ্যের ভেতরে নিম্নমানের পণ্য মিশিয়ে দেওয়া হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, যে ব্যক্তি প্রতারণা করে, তার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। (আবু দাউদ : ৩৪৫২)

৩. সুদি লেনদেন করা

সুদ ব্যবসার বরকত নির্মূল করে দেয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, আল্লাহ সুদকে মিটিয়ে দেন এবং সদকাকে বাড়িয়ে দেন। আর আল্লাহ কোনো অতি কুফরকারী পাপীকে ভালোবাসেন না। (সুরা বাকারা : ২৭৬)

৪. ত্রুটি গোপন করে পণ্য বিক্রি

পণ্যের কোনো দোষ থাকলে তা ক্রেতাকে স্পষ্ট করে জানানো বিক্রেতার নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। পণ্যের ত্রুটি গোপন করে কিছু বিক্রি করা বৈধ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুসলমান মুসলমানের ভাই। অতএব কোনো মুসলমানের পক্ষে তার ভাইয়ের কাছে পণ্যের ত্রুটি বর্ণনা না করে তা বিক্রি করা বৈধ নয়। (সুনানে ইবনে মাজাহ : ২২৪৬)

৫. ঋণ পরিশোধে বিলম্ব করা

ব্যবসা পরিচালনার প্রয়োজনে অনেকে ঋণ গ্রহণ করেন। কিন্তু সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও পাওনাদারের অর্থ পরিশোধে গড়িমসি করেন। ইসলামে এ ধরনের কাজকে ‘জুলুম’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ধনী ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা জুলুম। (বোখারি : ২২৮৭)

৬. মিথ্যা শপথ করা

পণ্যের গুণাগুণ বর্ণনা করতে গিয়ে বা ক্রেতার আস্থা অর্জনে মিথ্যা শপথ করা একটি বড় গোনাহ। হাদিস অনুযায়ী, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলবেন না এবং তাকে পবিত্র করবেন না, যে মিথ্যা শপথের মাধ্যমে পণ্য চালিয়ে দেয়। (সুনানে নাসাঈ : ৫৩৩৩)

৭. অবৈধ মজুদদারি করা

অধিক মুনাফার আশায় পণ্য আটকে রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা ইসলামে নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মুসলমানদের বিরুদ্ধে খাদ্যদ্রব্য মজুদদারি করে, আল্লাহ তাকে কুষ্ঠরোগ ও দারিদ্র্যের কশাঘাতে শাস্তি দেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ : ২১৫৫)

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন