হার্ট অ্যাটাকের আগে শরীর যে ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত দেয়?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬ । ৭:২৯ এএম

হৃদরোগ আজ বিশ্বজুড়ে বড় একটি স্বাস্থ্যঝুঁকি। অনেকেই মনে করেন, হার্ট অ্যাটাক হঠাৎ করেই ঘটে, কোনো পূর্বলক্ষণ ছাড়াই। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শরীর আগে থেকেই নানা সংকেত দেয়। এসব লক্ষণ সময়মতো চিনতে পারলে শুধু নিজের জীবনই নয়, আশপাশের মানুষের জীবনও বাঁচানো সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের লক্ষণগুলোর যেকোনো একটি বা একাধিক দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

১. অকারণ ক্লান্তি

কোনো কাজ না করেও যদি সারাক্ষণ অবসন্ন লাগে, শরীরে শক্তি না থাকে বা ছোট কাজেও হাঁপিয়ে যান, তবে এটি সাধারণ ক্লান্তি নাও হতে পারে। হৃদযন্ত্র পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ করতে না পারলে এমন দুর্বলতা দেখা দেয়।

২. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া

হঠাৎ মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে পড়া অনেক সময় রক্তচাপ কমে যাওয়ার ফল। হার্ট ঠিকমতো রক্ত পাম্প করতে না পারলে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়।

৩. হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া

স্বল্প সময়ে দ্রুত ওজন বাড়া শরীরে অতিরিক্ত তরল জমার ইঙ্গিত হতে পারে। হার্ট দুর্বল হলে শরীরে পানি জমে ফুলে ওঠে, যা ওজন বাড়িয়ে দেয়।

৪. বমিভাব ও ক্ষুধামন্দা

হজমের সমস্যা মনে হলেও এটি হার্ট ফেইলিউরের লক্ষণ হতে পারে। অনেক সময় পেট ফাঁপা, অরুচি বা বমি ভাব দেখা দেয়।

৫. অনিয়মিত হৃদস্পন্দন

হৃদস্পন্দন কখনো দ্রুত, কখনো ধীর বা হঠাৎ থেমে যাওয়ার মতো অনুভূতি, এসব অ্যারিথমিয়ার লক্ষণ। এটি স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়ায়।

৬. দীর্ঘস্থায়ী কাশি

দীর্ঘদিন কাশি থাকলে এবং কফের রঙ সাদা বা গোলাপি হলে তা ফুসফুসে তরল জমার কারণে হতে পারে, যা হৃদরোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।

৭. ঠান্ডা ঘাম

কোনো শারীরিক পরিশ্রম ছাড়াই হঠাৎ ঠান্ডা ঘাম হওয়া হার্ট অ্যাটাকের আগাম সংকেত হতে পারে।

৮. মাথা ঘোরা

ডিহাইড্রেশন বা কম খাওয়ার কারণে হলেও, বারবার অকারণে মাথা ঘোরা হার্ট সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

৯. ঘুমের সমস্যা

শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় বা অস্বস্তির কারণে রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া বা ঘুম না হওয়া হৃদরোগের লক্ষণ হতে পারে।

১০. মাড়ির প্রদাহ

দাঁত ব্রাশের সময় রক্ত পড়া বা মাড়ি ফুলে যাওয়া শরীরে প্রদাহের ইঙ্গিত দেয়, যা হৃদরোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

১১. নাক ডাকা

স্বাভাবিক নাক ডাকা সবসময় ক্ষতিকর নয়, তবে যদি শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় (স্লিপ অ্যাপনিয়া), তবে এটি হার্টের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

১২. হাত বা শরীরের উপরের অংশে ব্যথা

হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা অনেক সময় বুকে শুরু হয়ে হাত, কাঁধ, ঘাড় বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়ে।

১৩. শ্বাসকষ্ট

হালকা কাজেই যদি হাঁপিয়ে যান বা শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তাহলে তা হৃদযন্ত্রের দুর্বলতার লক্ষণ হতে পারে।

১৪. বুকব্যথা

বুকে চাপ, জ্বালা বা ভারী অনুভূতি—হার্ট অ্যাটাকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণগুলোর একটি।

১৫. হাঁটার সময় পায়ে ক্র্যাম্প

হাঁটলে পায়ে ব্যথা বা ক্র্যাম্প হওয়া রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে।

১৬. পায়ে লোম কমে যাওয়া

রক্ত চলাচল ব্যাহত হলে পায়ের লোম পড়ে যেতে পারে এবং ত্বক মসৃণ ও ঠান্ডা হয়ে যায়।

১৭. কফে রক্ত বা গোলাপি মিউকাস

এটি ফুসফুসে তরল জমার লক্ষণ, যা হার্ট ফেইলিউরের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

১৮. রাতে বারবার প্রস্রাবের চাপ

রাতে বারবার প্রস্রাবের প্রয়োজন হলে তা কিডনি ও হার্টের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

১৯. বুকের অস্বস্তি

বুকে চাপ, টান বা অস্বস্তি বারবার আসা-যাওয়া করলে তা গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত।

২০. বুকের মাঝখানে জ্বালা

অনেকে এটিকে অ্যাসিডিটি ভাবেন, কিন্তু এটি হার্টের সমস্যাও হতে পারে।

২১. ইরেকটাইল ডিসফাংশন

পুরুষদের ক্ষেত্রে রক্তপ্রবাহের সমস্যা থাকলে এটি হতে পারে, যা হৃদরোগের আগাম লক্ষণ।

২২. বিভ্রান্তি ও স্মৃতিভ্রংশ

মনোযোগের অভাব, ভুলে যাওয়া বা বিভ্রান্তি—এসব রক্তে রাসায়নিক পরিবর্তনের কারণে হতে পারে।

২৩. স্লিপ অ্যাপনিয়া

ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া হার্টের ওপর চাপ বাড়ায় এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

২৪. প্যানিক অ্যাটাক

হৃদকম্পন, ঘাম, শ্বাসকষ্ট—এসব লক্ষণ প্যানিক অ্যাটাক ও হার্ট অ্যাটাক উভয়ের ক্ষেত্রেই দেখা যায়।

২৫. বুক ধড়ফড়

হৃদস্পন্দন জোরে অনুভূত হওয়া বা অনিয়মিত হওয়া অ্যারিথমিয়ার লক্ষণ।

২৬. বিশ্রামেও শ্বাস নিতে কষ্ট

কোনো কাজ না করেও শ্বাস নিতে সমস্যা হলে তা গুরুতর হৃদরোগের ইঙ্গিত।

২৭. হঠাৎ তীব্র মাইগ্রেন

হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা, বমি বা মাথা ঘোরা—স্ট্রোক বা রক্ত জমাট বাঁধার লক্ষণ হতে পারে।

২৮. তীব্র পিঠব্যথা

বুক থেকে পিঠে ছড়িয়ে পড়া ব্যথা হার্ট অ্যাটাকের সংকেত হতে পারে।

২৯. পা ফুলে যাওয়া

পা বা গোড়ালি ফুলে গেলে শরীরে পানি জমার ইঙ্গিত দেয়, যা হার্টের সমস্যার কারণে হতে পারে।

৩০. শরীরে পানি জমা

ফ্লুইড রিটেনশন হলে শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে যা, এটি হার্টের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার লক্ষণ।

করণীয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব লক্ষণ সবসময়ই হার্ট অ্যাটাকের নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলোকে অবহেলা করা বিপজ্জনক। হঠাৎ করে একাধিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সুস্থ থাকতে নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র : এনডিটিভি

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন