ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জ্বালানি তেলের (ডিজেল) তীব্র সংকটে বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে আছে আল-আলী অটো ব্রিকস।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল)বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিকদের কণ্ঠে ছিল অসহায়ত্ব আর বেঁচে থাকার আকুতি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন যেখানে শ্রমিকদের কোলাহলে মুখর থাকত অটো ইট ভাটার আঙিনা, সেখানে এখন নেমে এসেছে অজানা আতঙ্কের নীরবতা। জ্বালানি তেল(ডিজেল) না থাকায় প্রায় ৩০-৩৫টি যানবাহন ও দুটি জেনারেটর একেবারে অচল হয়ে পড়েছে। উৎপাদন কার্যক্রম প্রায় স্থবির। যে কোনো মুহূর্তে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে ইট ভাটাটি। এই ভাটার ওপর নির্ভরশীল প্রায় ২৫০ শ্রমিক আর তাদের পরিবারের চার শতাধিক মানুষ। তাদের জীবনে এখন অনিশ্চয়তার কালো ছায়া।
ভাটায় কর্মরত নবিরন বেগম নামে এক শ্রমিক বলেন, আমরা দিন আনি দিন খাই। কাজ না থাকলে ঘরে ভাত রান্না হবে না। বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকাতে পারি না। কিস্তির চাপ আছে। খাবো নাকি কিস্তি দেবো, বুঝতে পারছি না। ভাটা বন্ধ হয়ে গেলে পথে বসা ছাড়া উপায় নেই।
রহিম নামে আরেকজন বলেন, এই ভাটাই আমাদের সবকিছু। এটা বন্ধ হলে আমরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হবো। মালিক আর কতদিন আমাদের কাজ ছাড়া বসিয়ে বেতন দেবে।
ইট ভাটার ম্যানেজার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ভাটা চালু রাখতে প্রতিদিন প্রায় ১৫০০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে এক ফোঁটা জ্বালানি তেল (ডিজেল) পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সব কার্যক্রম থমকে গেছে। জ্বালানি ছাড়া আমাদের ভাটা এক মিনিটও চলতে পারে না। যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে প্রায় ৫০০ মানুষের জীবিকা একসাথে বন্ধ হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ থাকলে কিছু কাজ করা যায়,কিন্তু ডিজেল ছাড়া গাড়ি ও জেনারেটর চালানো সম্ভব নয়। আমরা প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানাই। এই শ্রমিকদের কথা ভেবে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করুন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান বলেন, বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছে। অনেক শ্রমিকের জীবিকা এই কারখানার সঙ্গে জড়িত। আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করবো।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬ । ৭:৫২ অপরাহ্ণ