ধর্মীয় কাজে বাধা দেওয়া অমার্জনীয় পরিণতি

ধর্মীয় কাজে বাধা দেওয়া অমার্জনীয় পরিণতি
ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬ । ১:৫৩ অপরাহ্ণ

বহু মানুষ ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থে কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য আল্লাহর দ্বিনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তারা সাময়িকভাবে সফল হলেও চূড়ান্ত পরিণতিতে ব্যর্থতা তাদের জন্য অবধারিত। এরা ইহকালে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, পরকালেও জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিঃসন্দেহে যেসব লোক কাফির, তারা ব্যয় করে নিজেদের ধন-সম্পদ, যাতে বাধা দান করতে পারে আল্লাহর পথে। বস্তুত এখন তারা আরো ব্যয় করবে।

তারপর তা-ই তাদের জন্য আক্ষেপের কারণ হবে এবং শেষ পর্যন্ত তারা হেরে যাবে। আর যারা কাফির, তাদের জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

’
(সুরা : আনফাল, আয়াত : ৩৬)
যুগে যুগে মানুষ আল্লাহদ্রোহী কাজে লিপ্ত হয়েছে। এবং আল্লাহর দ্বিনের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

আদ, সামুদ, কওমে লুত, আহলে মাদইয়ান প্রভৃতি গোত্র আল্লাহদ্রোহী কাজে লিপ্ত হয়েছে। ফলে আল্লাহ তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়েছেন। কিন্তু মানুষ তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে না বলেই এ যুগেও সুনামি, সিডর, নার্গিস, ভূমিকম্প, ভূমিধস প্রভৃতি প্রাকৃতিক বিপর্যয় দিয়ে আল্লাহ পৃথিবীর মানুষকে সতর্ক-সাবধান করেন। তবে মানুষ খুব কমই উপদেশ গ্রহণ করে।

দ্বিনের কাজ করা আল্লাহর নির্দেশ। এ নির্দেশ বাস্তবায়নে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.) বিভিন্নভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি দ্বিনি কাজে বাধা প্রদান করতে মহান আল্লাহ কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা পথে-ঘাটে এ কারণে বসে থেকো না যে আল্লাহ বিশ্বাসীদের হুমকি দেবে, আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করবে এবং তাতে বক্রতা অনুসন্ধান করবে। স্মরণ করো, যখন তোমরা সংখ্যায় অল্প ছিলে অতঃপর আল্লাহ তোমাদের অধিক করেছেন এবং লক্ষ করো—কেমন অশুভ পরিণতি হয়েছে অনর্থকারীদের!’
(সুরা : আরাফ, আয়াত : ৮৬)

আল্লাহর দ্বিনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা মূলত শয়তানি কাজ।
মানব সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে শয়তান এ কাজ করে আসছে। প্রথম মানব ও প্রথম নবী আদম (আ.) থেকে অদ্যাবধি শয়তানের এ কাজ অব্যাহত আছে। শয়তানের সঙ্গে কিছু মানুষও দ্বিনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘শয়তান তো চায় মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে তোমাদের বিরত রাখতে। অতএব, তোমরা এখনো কি নিবৃত্ত হবে?’
(সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৯১)

আল্লাহর দ্বিনে বাধা দেওয়া ইহুদি-নাসারাদের কাজ। তারা একদিকে নবী-রাসুলদের অস্বীকার করত, অন্যদিকে কেউ কেউ আল্লাহর দ্বিনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করত। মহান আল্লাহ বলেন, ‘বলুন, হে কিতাবধারীরা! কেন তোমরা আল্লাহর পথে ঈমানদারদের বাধা দান করো, তোমরা তাদের দ্বিনের মধ্যে বক্রতা অনুপ্রবেশ করানোর পন্থা অনুসন্ধান করো, অথচ তোমরা এ পথের সত্যতা প্রত্যক্ষ করছ। বস্তুত আল্লাহ তোমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অনবগত নন।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৯৯)

দ্বিনের পথে বাধা দান করলে বহু কল্যাণকর জিনিস থেকে বঞ্চিত হতে হয়। ইহুদিরা আল্লাহর দ্বিনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করত। ফলে তাদের জন্য অনেক কল্যাণকর বস্তু হারাম করা হয়, যা আগে তাদের জন্য হালাল ছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বস্তুত ইহুদিদের জন্য আমি হারাম করে দিয়েছি বহু পূতঃপবিত্র বস্তু, যা তাদের জন্য হালাল ছিল, তাদের পাপের কারণে এবং আল্লাহর পথে অধিক পরিমাণে বাধা দানের দরুন।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৬০)

অনুরূপভাবে এখনো কেউ আল্লাহর দ্বিনে বাধা দিলে সেও কল্যাণকর বহু জিনিস থেকে বঞ্চিত হবে।

দ্বিনি কাজে বাধা দান করা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। এ অপরাধ করে কেউ তাওবা না করলে আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা কাফির এবং আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে ফিরিয়ে রাখে, অতঃপর কাফির অবস্থায় মারা যায়, আল্লাহ কখনোই তাদের ক্ষমা করবেন না।’ (সুরা : মুহাম্মদ, আয়াত : ৩৪)

দ্বিনের পথে বাধা দান জঘন্য অপরাধ। এ জন্য আল্লাহ পরকালে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা, পণ্ডিত ও সংসারবিরাগীদের অনেকে মানুষের মালপত্র অন্যায়ভাবে ভোগ করে চলেছে এবং আল্লাহর পথ থেকে লোকদের নিবৃত রেখেছে। আর যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য জমা করে রাখে এবং তা ব্যয় করে না আল্লাহর পথে, তাদের কঠোর আজাবের সংবাদ শুনিয়ে দিন।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৩৪)

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘যারা কাফির হয়েছে এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করেছে, আমি তাদের আজাবের পর আজাব বাড়িয়ে দেব। কারণ তারা অশান্তি সৃষ্টি করত।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৮৮)

অন্যত্র তিনি বলেন, ‘তোমরা নিজেদের কসমগুলোকে পারস্পরিক কলহ-দ্বন্দ্বের বাহানা কোরো না। তাহলে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পা ফসকে যাবে এবং তোমরা শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করবে এ কারণে যে তোমরা আমার পথে বাধা দান করেছ এবং তোমাদের কঠোর শাস্তি হবে।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৯৪)

আল্লাহ আরো বলেন, ‘যারা কুফরি করে ও আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে এবং সেই মসজিদে হারাম থেকে বাধা দেয়, যাকে আমি প্রস্তুত করেছি স্থানীয় ও বহিরাগত সব মানুষের জন্য সমভাবে এবং যে মসজিদে হারামে অন্যায়ভাবে কোনো ধর্মদ্রোহী কাজ করার ইচ্ছা করে, আমি তাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আস্বাদন করাব।’ (সুরা : হজ, আয়াত : ২৫)

দ্বিনের পথে বাধা দানকারীরা যত কৌশল অবলম্বন করুক, তারা যতই প্রভাবশালী হোক, একসময় ব্যর্থ হতে হবে। পরাজয়ের মালা তাদের গলায় পরতেই হবে। এটা মহান আল্লাহর ঘোষণা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা কুফরি করে এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে, আল্লাহ তাদের সব কর্ম ব্যর্থ করে দেন।’ (সুরা : মুহাম্মদ, আয়াত : ১)

সৌজন্যে: কালের কণ্ঠ

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন