অফিসের ব্যস্ততা যেন প্রতিদিনেরই সঙ্গী। তবুও প্রতিটি কাজ আন্তরিকতার সাথে সম্পন্ন করার চেষ্টা সবসময়ই থাকে। কাউকে অযথা ঘোরানো বা দায়িত্বে অবহেলা—এসব থেকে নিজেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখার চেষ্টা করি। কতটা পারি বা পেরেছি, সে হিসাব আজ না-ই বা করলাম।
আজও ছিল তেমনই একটি দিন। নির্ধারিত অফিস সময় পেরিয়ে গেলেও এক পুলিশ কর্মকর্তা সেবা নিতে আসেন। নিয়ম অনুযায়ী সময় শেষ হলেও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাকে ফিরিয়ে দিতে মন সায় দিল না। তাকে বসতে দিলাম, ধৈর্য ধরে তার সমস্যার কথা শুনলাম এবং যথাসাধ্য আন্তরিকতার সাথে সমাধানের চেষ্টা করলাম।
আমার এই সামান্য চেষ্টায় তিনি সন্তুষ্ট হলেন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ হিসেবে কিছু অর্থ দিতে চাইলেন। বিনয়ের সাথে জানিয়ে দিলাম—এটি আমার নীতি ও পছন্দের বিরুদ্ধে। আমি সেবার বিনিময়ে কোনো ব্যক্তিগত অর্থ গ্রহণ করি না। কারণ, মানুষের সেবা করার জন্যই আমি বেতন পাই—যার মাধ্যমে সাদামাটা ডাল-ভাতেই আমার জীবন চলে যায়, আলহামদুলিল্লাহ।
তিনি বারবার চেষ্টা করেও যখন কিছু দিতে পারলেন না, তখন কিছুটা বিস্ময় আর শ্রদ্ধা মিশ্রিত দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। শেষে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “আপনি সত্যিই একজন ভালো মানুষ। আল্লাহ আপনাকে ভালো রাখুন।”
এ ধরনের অভিজ্ঞতা নতুন নয়। প্রায়ই কেউ না কেউ কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য কিছু দিতে চান—কখনো অর্থ, কখনো খাবার। তবে যতটা সম্ভব তা এড়িয়ে গিয়ে বরং তাদের আপ্যায়ন করার চেষ্টা করি। কারণ, আমার বিশ্বাস—সত্যিকারের সন্তুষ্টি আসে দেওয়ার মধ্যে, নেওয়ার মধ্যে নয়।
অনেকে হয়তো এই লেখাকে আত্মপ্রচার বা আত্মপ্রশংসা ভাবতে পারেন। কিন্তু উদ্দেশ্য তা নয়। আমি শুধু একটি বিশ্বাস ভাগ করতে চাই—পৃথিবীতে টাকা-পয়সাই সবকিছু নয়। বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয়টুকু থাকলেই প্রকৃত সুখ খুঁজে পাওয়া যায়। অতিরিক্ত অর্থ কিংবা অযথা প্রাপ্তি অনেক সময় মানুষের জীবনে অশান্তি ডেকে আনে।
আমি সবসময় বিশ্বাস করি—“মানুষ মানুষের জন্য”। মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসা—এটাই সবচেয়ে বড় মানবিক দায়িত্ব। সেবার মাধ্যমে যদি কারো মুখে হাসি ফোটানো যায়, সেটাই জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।
এই আদর্শ নিয়েই বেঁচে আছি, এবং আজীবন এভাবেই থাকতে চাই। সবাই দোয়া করবেন, যেন সততা ও মানবিকতার এই পথ থেকে কখনো বিচ্যুত না হই।
লেখক: হারুন-অর-রশীদ, সংবাদকর্মী, ফরিদপুর

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬ । ৭:৫৪ অপরাহ্ণ