ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে বিদেশে পাচার ও বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চারজনকে আসামি করে মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় জসিম সরদার নামে একজন আসামিকে গ্রেফতার করে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নওপাড়া এলাকার মনিরুজ্জামান মিয়া (৫১) তার ছেলে মো. মিনহাজ মিয়া (২১)-কে বৈধভাবে বিমানে ইতালি পাঠানোর জন্য স্থানীয় কয়েকজন দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযুক্তরা ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে প্রথমে ২৬ লাখ টাকা দাবি করে এবং ভুক্তভোগী পরিবার তাদের কথায় বিশ্বাস করে ধাপে ধাপে সেই অর্থ প্রদান করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, লিবিয়ায় অবস্থানরত মূল আসামি মনির সরদারের (৪৮) নির্দেশে তার স্ত্রী ও সহযোগীরা অর্থ সংগ্রহ ও বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করেন। অপর আসামিরা হলেন পপি আক্তারী (৩৫), জসিম সরদার (৪৭) এবং রেজাউল কাজী (৫৫)। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা একত্রিত হয়ে একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্র হিসেবে কাজ করছিল।
পরিবারের দাবি, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে প্রথম দফায় ২৬ লাখ টাকা পরিশোধের পর ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মিনহাজ মিয়াকে ঢাকা থেকে সরাসরি ইতালি না পাঠিয়ে দুবাই হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকেই তিনি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের হাতে আটক অবস্থায় আছেন বলে জানানো হয়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর পরিবারকে তার ওপর নির্যাতনের ভিডিও পাঠানো হয় এবং আরও ৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়। নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হলে পরিবারটি বাধ্য হয়ে নিজেদের জমি বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রায় ৭ শতাংশ জমি ৪ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে তা আসামিদের নামে দলিল করে দিতে বাধ্য হন ভুক্তভোগীর বাবা। পরে আরও ১৮ লাখ টাকা বিভিন্ন পর্যায়ে প্রদান করা হয় বলে দাবি করা হয়।
এত বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়ার পরও ভুক্তভোগীকে দেশে ফেরত না পাঠিয়ে পুনরায় টাকা দাবি করা হয় এবং তাকে লিবিয়ায় আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে চারজনকে আসামি করে একটি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জসিম সরদার নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি মানবপাচার চক্রের আন্তর্জাতিক সংযোগ থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানা যাবে।

ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ । ১২:৩০ অপরাহ্ণ