দাম্পত্যে অশান্তি থেকে মুক্তি পেতে যা করবেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬ । ৭:৪১ পূর্বাহ্ণ

সমাজে বিবাহ-বিচ্ছেদ বেড়েই চলেছে। আমাদের দেশে পাশ্চাত্যের মতো হাইস্কুল-কলেজগুলোয় যৌনশিক্ষা ব্যবস্থা নেই। ফলে অনেক ভুল ধারণা ও বিশ্বাস নিয়ে তরুণ-তরুণীরা সংসারজীবনে প্রবেশ করে থাকে।

দাম্পত্য জীবনে প্রধানত যে শারীরিক সমস্যাগুলো দেখা যায়, তা দুই ধরনের- ইরেকটাইল ডিজফাংশন (ইডি) ও প্রিম্যাচিউর ইজাকুলেশন (পিই)। ইরেকটাইল ডিজফাংশন সাধারণত পুরুষাঙ্গে রক্ত চলাচল ও স্নায়বিক সমস্যায় হতে পারে। আবার উভয়ের কারণেও হয়ে থাকে। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের কারণেও এটি হতে পারে।

এসব রোগ থাকলে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। আরেক ধরনের অক্ষমতাকে বলা হয় সাইকোজেনিক ইমপোটেন্স, যা প্রায়ই বিয়ের পরপর দেখা যায় এবং মানসিক চাপ বা নার্ভাসনেসের কারণে হয়। কিছু সহায়ক চিকিৎসায় অল্প সময়েই এটি ভালো হয়ে যায়। তবে সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। দ্রুত বীর্যপাত (পিই) তখনই বলা হয়, যখন এক মিনিটের মধ্যে বীর্যপাত ঘটে। তবে বর্তমানে এটি দীর্ঘায়িত করার আধুনিক চিকিৎসা রয়েছে।

চিকিৎসা : সমাজে ভ্রান্ত ধারণার কারণে অনেকে এসব সমস্যায় নানা অপচিকিৎসার শিকার হন। পুরুষের এ ধরনের সমস্যার জন্য সঠিক চিকিৎসক হলেন যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ। প্রয়োজনে ইউরোলজিস্ট ও অ্যান্ড্রোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। অ্যান্ড্রোলজিস্ট রোগীর শারীরিক পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ও ডপলার আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে বলেন।

ডপলার পরীক্ষার মাধ্যমে রক্ত চলাচলজনিত (ভাসকুলোজেনিক) ইমপোটেন্স নিশ্চিত করা যায়। পাশাপাশি পুরুষাঙ্গে পেরোনিজ ডিজিজ বা অন্য কোনো সমস্যা আছে কি-না, তাও দেখা হয়। ইডি ও পিই- উভয়েরই কার্যকর চিকিৎসা রয়েছে। সঠিক পরামর্শ, ওষুধ, ইনজেকশন বা পেনাইল প্রোস্থেসিস বা ইমপ্ল্যান্টের মাধ্যমে চিকিৎসা করা সম্ভব।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। হরমোনজনিত সমস্যা থাকলে উপযুক্ত হরমোন থেরাপি নিতে হবে। বিয়ের আগে অনেকেই দুশ্চিন্তায় ভোগেন; উন্নত অনেক দেশে এখন প্রাক-বিবাহ কাউন্সেলিং চালু হয়েছে। দাম্পত্য অশান্তি ও বিবাহবিচ্ছেদ কমাতে এ ধরনের সমস্যায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ওষুধে চিকিৎসা : নির্দিষ্ট ফসফোডাইএস্টারেজ-৫ ইনহিবিটর ওষুধ, যেমন- সিলডেনাফিল, ভারডেনাফিল ও টাডালাফিল ব্যবহৃত হয়। এগুলো বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুরুষাঙ্গের ক্যাভারনোসাল টিস্যুতে রক্তপ্রবাহ বাড়ায় এবং প্রয়োজনীয় সময়ে উত্থান সৃষ্টি করতে সহায়তা করে।

তবে এসব ওষুধের কিছু গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে এবং সবার জন্য নিরাপদ নয়। কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ সেবনের পর হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে। যারা হার্টের রোগে নাইট্রোগ্লিসারিনজাতীয় ওষুধ সেবন করে থাকেন।

যাদের বুকব্যথা, হার্ট ফেইলিউর, সাম্প্রতিক এনজাইনা, অনিয়ন্ত্রিত হৃৎস্পন্দন, নিম্ন রক্তচাপ (৯০/৫০) বা উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে কিংবা যাদের স্ট্রোক হয়েছে- তারা এসব ওষুধ সেবন করবেন না। যে কোনো ওষুধ গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, ত্বক-চর্ম-যৌন ও হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট বিভাগ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন