ঘরে বসেই কিডনি পরীক্ষা করার সহজ উপায়

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ । ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ

কিডনি আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। এটি রক্ত থেকে বর্জ্য অপসারণ, শরীরের তরলের ভারসাম্য রক্ষা এবং খনিজ পদার্থের সামঞ্জস্য বজায় রাখার মতো অত্যাবশ্যকীয় কাজগুলো নিরন্তর করে যায়। সাধারণত কিডনিতে বড় ধরনের কোনো সমস্যা না হওয়া পর্যন্ত আমরা এর স্বাস্থ্যের দিকে খুব একটা নজর দিই না।

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো ল্যাব টেস্ট ছাড়াই প্রস্রাব ত্যাগের পরিমাণ ট্র্যাক করার মাধ্যমে ঘরে বসেই কিডনির প্রাথমিক অবস্থা যাচাই করা সম্ভব।

কেন প্রস্রাব পরিমাপ জরুরি?

কিডনি সারাক্ষণ রক্ত ফিল্টার করে অতিরিক্ত বর্জ্য ও পানি প্রস্রাব হিসেবে শরীর থেকে বের করে দেয়। তাই প্রস্রাবের পরিমাণ কিডনির কার্যকারিতার একটি অন্যতম প্রাথমিক নির্দেশক। নেফ্রোলজি বা কিডনি রোগ সংক্রান্ত গাইডলাইন অনুযায়ী, এটি অত্যন্ত সহজ এবং কার্যকর একটি পদ্ধতি, যা বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা নিয়মিত ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করেন এমন ব্যক্তিদের জন্য জীবন রক্ষাকারী হতে পারে।

পরীক্ষার পদ্ধতি: ১০ ঘণ্টার নিয়ম

ঘরে বসে কিডনি পরীক্ষা করার জন্য কোনো বিশেষ যন্ত্রপাতির প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র একটি পরিষ্কার পরিমাপক পাত্র এবং কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। নিচে পদ্ধতিটি দেওয়া হলো:

১. দিনের এমন একটি ১০ ঘণ্টা সময় বেছে নিন যখন আপনি কোনো বিরতি ছাড়াই প্রস্রাব সংগ্রহ ও পরিমাপ করতে পারবেন।

২. প্রস্রাব সংগ্রহের জন্য একটি পরিষ্কার এবং পরিমাপ নির্দেশক চিহ্ন দেওয়া ১ লিটারের বোতল বা পাত্র ব্যবহার করুন।

৩. ১০ ঘণ্টা শেষে মোট প্রস্রাবের পরিমাণ কত হলো তা নোট করুন এবং আপনার শরীরের ওজনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তা মিলিয়ে দেখুন।

৪. যারা ঝুঁকিতে আছেন, তারা মাসে অন্তত এক বা দুইবার এই পরীক্ষাটি করতে পারেন।

হিসাব করবেন যেভাবে

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সুস্থ মানুষের প্রতি কেজি ওজনের জন্য প্রতি ঘণ্টায় ০.৫ থেকে ১ মিলিলিটারপ্রস্রাব হওয়া স্বাভাবিক।

উদাহরণস্বরূপ: আপনার ওজন যদি ৬০ কেজি হয়, তবে আপনার প্রতি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৬০ মিলি প্রস্রাব হওয়া উচিত। সেই হিসাবে ১০ ঘণ্টায় আপনার মোট প্রস্রাব হওয়ার কথা ৩০০ থেকে ৬০০ মিলি।

যদি প্রস্রাবের পরিমাণ নিয়মিতভাবে এই রেঞ্জের মধ্যে থাকে, তবে বুঝতে হবে আপনার কিডনি স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।

কখন সতর্ক হতে হবে?

যদি প্রস্রাবের পরিমাণ প্রত্যাশিত সীমার চেয়ে অনেক কম হয়, তবে তা কিডনির অকার্যকারিতা, পানিশূন্যতা বা কিডনিতে রক্ত প্রবাহ কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে। প্রস্রাবের পরিমাণের পাশাপাশি নিচের উপসর্গগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

১. পা, গোড়ালি বা মুখে ফোলা ভাব।

২. অতিরিক্ত ক্লান্তি বা দুর্বলতা অনুভব করা।

৩. প্রস্রাবে ফেনা হওয়া বা প্রস্রাবের রঙ অনেক গাঢ় হওয়া।

৪. বমি বমি ভাব বা মনোযোগ দিতে সমস্যা হওয়া।

সতর্কবার্তা

মনে রাখবেন, ঘরে বসে প্রস্রাব পরিমাপ করা কিডনি স্বাস্থ্যের একটি প্রাথমিক ধারণা মাত্র। এটি কখনোই ল্যাবরেটরি পরীক্ষা যেমন সিরাম ক্রিয়েটিনিন বা ইজিএফআর (eGFR)-এর বিকল্প নয়। যদি আপনি প্রস্রাবের পরিমাণে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন, তবে পূর্ণাঙ্গ রোগ নির্ণয়ের জন্য অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। কিডনি রোগের ক্ষেত্রে আগাম সতর্কতা এবং দ্রুত চিকিৎসায় বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

 

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন