ফরিদপুরের পদ্মার সেই কুমির ৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার, ফিরবে নোনা পানিতে

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ । ৬:০৪ অপরাহ্ণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীতে জেলের বরশিতে আটকা পড়া একটি কুমিরকে প্রায় ৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে খুলনা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিশেষ টিম।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাজী বাড়ির খেয়াঘাট এলাকা থেকে কুমিরটি উদ্ধার করা হয়।

এর আগে সকালে উপজেলার গোপালপুর এলাকায় পদ্মা নদীতে মাছ ধরার সময় জেলেদের ফেলা হাজাইরা বরশিতে কুমিরটি আটকা পড়ে। পরে স্থানীয় জেলেরা কুমিরটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে কাজী বাড়ির ঘাটে নিয়ে আসেন এবং প্রশাসনকে খবর দেন।

খবর পেয়ে সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে পুলিশ ও স্থানীয় বন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে কুমিরটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। বিকেলে খুলনা থেকে আসা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে কুমিরটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

খুলনা বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা তন্ময় আচার্য জানান, উদ্ধার করা কুমিরটি একটি পুরুষ নোনা পানির প্রজাতির। সাধারণত এ ধরনের কুমির সমুদ্র বা উপকূলীয় লবণাক্ত পানিতে বাস করে। তবে জোয়ার-ভাটা, খাদ্যের সন্ধান কিংবা প্রাকৃতিক কারণে মাঝে মাঝে তারা মিঠা পানির নদীতেও চলে আসতে পারে।

তিনি আরও জানান, কুমিরটিকে প্রথমে খুলনায় নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপযুক্ত পরিবেশে—সম্ভবত নোনা পানির আবাসস্থলে—এটিকে অবমুক্ত করা হবে।

উদ্ধারে সহায়তাকারী জেলে স্বপন ব্যাপারী, রাজীব ব্যাপারী, রবিউল ব্যাপারী ও বিল্লাল খান জানান, প্রতিদিনের মতো তারা মাছ ধরতে গিয়ে হঠাৎ বরশিতে অস্বাভাবিক টান অনুভব করেন। পরে বুঝতে পারেন একটি বড় কুমির আটকা পড়েছে। ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তারা কুমিরটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন।

এ বিষয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কুমিরটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। তিনি নদীতীরবর্তী এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যেহেতু নোনা পানির কুমির পাওয়া গেছে, তাই শিশু ও গবাদিপশু নিয়ে নদীতে নামার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।”

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচারণা চালানো হবে।

উল্লেখ্য, পদ্মা নদী কুমিরের স্বাভাবিক আবাসস্থল না হলেও অতীতে বিচ্ছিন্নভাবে এখানে কুমির দেখা যাওয়ার ঘটনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও খাদ্যের সন্ধান—এসব কারণেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে।

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন