ফরিদপুরের মধুমতি চরে চুরি গেল শ্যালো মেশিন, পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে পাটক্ষেত

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ । ৩:৫৯ অপরাহ্ণ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে কেনা শ্যালো মেশিন চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এক কৃষক। সেচের একমাত্র ভরসা হারিয়ে তার পাটক্ষেত এখন শুকিয়ে ফেটে চৌচির, সামনে দেখা দিয়েছে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তা।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের দিগনগর গ্রামের মধুমতি নদীর চরের ফসলের মাঠ থেকে এই চুরির ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী কৃষক জহুর শেখ জানান, প্রায় ১০ একর জমি বর্গা নিয়ে তিনি পাট চাষ করেছেন।দীর্ঘদিন বৃষ্টির অভাবে জমিতে সেচের তীব্র সংকট দেখা দিলে তিনি একটি এনজিও থেকে ৯০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে শ্যালো মেশিনটি কিনে মাঠে স্থাপন করেন। মেশিন বসানোসহ আনুষঙ্গিক খরচে আরও প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে জহুর শেখ বলেন, “প্রতিদিনের মতো বুধবার সকালে মাঠে গিয়ে দেখি আমার মেশিন নেই। সব শেষ হয়ে গেল। পানির অভাবে পাটক্ষেত শুকিয়ে যাচ্ছে, ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। এত কষ্ট করে যে স্বপ্ন দেখেছিলাম, সব শেষ হয়ে গেল।”

তিনি আরও জানান, শ্যালো মেশিনের ওপর নির্ভর করেই পাটের সেচ দেওয়া হচ্ছিল। পরবর্তীতে ওই জমিতে ধান চাষের পরিকল্পনাও ছিল তার। কিন্তু মেশিন চুরি হয়ে যাওয়ায় এখন সেই পরিকল্পনাও ভেস্তে গেছে।

জহুর শেখের পরিবারে রয়েছেন বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান। ঋণের কিস্তি হিসেবে প্রতি সপ্তাহে ২ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে তাকে। আয়ের কোনো বিকল্প উৎস না থাকায় কিস্তি পরিশোধ নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, মধুমতি নদীর চরাঞ্চলে প্রায়ই কৃষি যন্ত্রপাতি চুরির ঘটনা ঘটে। তবে নিরাপত্তা জোরদার না হওয়ায় কৃষকরা চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, “এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কৃষি নির্ভর এই অঞ্চলে এমন চুরির ঘটনা শুধু একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে দিচ্ছে না, বরং স্থানীয় কৃষি উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত মেশিন উদ্ধার ও চোরদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন