যখন যার বিরুদ্ধে অভিযোগ পান, সেই এভিডেন্সগুলোর ১০০% সত্যতা নিশ্চিত করে সংগ্রহে রাখুন। দেন, এভিডেন্স অনুযায়ী নিউজটি সাজিয়ে রাখুন। সর্বশেষ, অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করুন। সে কথা না বললে, লিখে দেন- বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন। অথবা যা বলবে তাই লিখে সংবাদ প্রকাশ করুন। এটাই সাংবাদিকতার এথিকস।
এবার আসি- যদি সে কথা না বলতে চায়, তাহলে বার বার তাঁর কাছে জানাও জরুরি না। কিন্তু, সংবাদ প্রকাশের আগেই যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে দেন- রহিমের বিরুদ্ধে পুকুর চুরির অভিযোগ৷ বিস্তারিত আসছে..- তখন বিষয়টি দৃষ্টিতে চলে যায়।
হ্যাঁ, সাংবাদিকদের কাজ অনিয়মের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বা টেলিভিশনে তুলে ধরা। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ফোর্স করা মানেই ধান্দাবাজি৷
এটাও আমরা জানি- বিআরটিএ, পাসপোর্ট অফিস, ভূমি অফিস- মানুষ হয়রানির কারখানা। অধিকাংশই টাকা ছাড়া কাজ হয় না৷ আর সেক্ষেত্রে কর্মকর্তারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকেন। তাঁরা চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ব্যবহার করে থাকেন।
মূল কথায় আসা যাক, ইদানীং যে কেউ সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে থাকেন- এটা অশনিসংকেত। গলায় একটি কার্ড, হাতে বুম আর স্টিক, সাথে মোবাইল নিয়েই সাংবাদিক হয়ে যাচ্ছে। এরপর কোনো এথিকস না জেনেই হুটহাট কোথাও চলে যান। এরপর যা হওয়ার তা হয়ে যায়৷
হ্যাঁ- আপনি সাংবাদিকতায় আসুন- সাধুবাদ জানাই। তবে কোনো বাটপারের হাত ধরে নয়৷ ধরলাম, আপনার সাংবাদিকতা নিয়ে জ্ঞান নেই বা বিন্দুমাত্র ধারণা নেই- সেক্ষেত্রে অন্তত এক বছর একজন সিনিয়রের সঙ্গে কাজ করুন, সবকিছু বুঝে নেন বা সাংবাদিকতার জ্ঞান অর্জন করুন৷ এরপর না হয়- ফিল্ডে সাংবাদিকতা শুরু করুন৷
আমার কথাই বলি- আমি পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছি। এরমধ্যে ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সিনিয়রদের কাছে থেকেছি, তাঁদের সাথে চলেছি, তাঁদের নিউজের প্যাটার্ন দেখেছি। কিছু না বুঝলেও তাঁদের সহযোগিতা চেয়েছি। এই সময়ে স্থানীয় দৈনিক বাঙ্গালী খবর পত্রিকায় অফিসে বা ডেস্কে কাজ করেছি।
এরপর ২০১৮ সাল থেকে মোটামুটি ফিল্ডে প্রবেশ করি, তবে খুব কম। এই সময়ে দৈনিক বাঙ্গালী সময় পত্রিকায় লেখালেখি শুরু করি৷ ২০১৯ এবং ২০২০ সাল থেকে পত্রিকাটিতে পুরোদস্তুর লেখালেখি করি। অনেক অনিয়মের নিউজও তুলে ধরেছি।
এরপর ২০২২ সাল থেকে শ্রদ্ধেয় একজন সিনিয়র সাংবাদিকের সহযোগিতায় প্রথম সারির দৈনিক “আজকের পত্রিকায়” কাজ করার সুযোগ হয়৷ শুরুতে তাঁরা আমার সাংবাদিকতায় মেধা যাচাইয়ে অনুসন্ধানীসহ ভিন্ন ভিন্ন আইটেমের সংবাদ করার অ্যাসাইনমেন্ট দেন (জেলায় ফিল্ড পর্যায়ে সকল সংবাদ করার জ্ঞান থাকতে হয়)। ইনশাআল্লাহ, সকলের দোয়া ও সহযোগিতায় ৬ মাসে সেই মেধা প্রমাণে সক্ষম হই।
সবশেষে তাঁরা অফিসিয়ালি ডেকে আরও মৌখিক পরীক্ষা নেন। এরপর আমাকে নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র তুলে দেন। এরমধ্যে ২০২৪ সালে ডিসি অফিসের এলএ শাখার এক ট্রেসারের বিরুদ্ধে তিন মাসের অনুসন্ধানে- “অধিগ্রহণ কৌসল ট্রেসারের আছে আবাসন ব্যবসাও, ডিসি অফিসের চাকরিতেই আলাদিনের চেরাগ হাতে হাসেমের”- শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করি। এটি নিয়ে আমাকে অপবাদ দেয়ার চেষ্টা কম হয়নি কিন্তু তাঁরা ব্যর্থ হয়েছে৷ কারন, এ টু জেড ডকুমেন্ট নিয়েই সংবাদটি প্রকাশ করেছিলাম। এই অনুসন্ধানকালীন বিষয়টি তাকে বুঝতেও দেইনি৷
ইনশাল্লাহ, সকলের দোয়ায় এখনও পত্রিকাটিতে আছি। তবে, এখনও সিনিয়রদের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে থাকি। কারণ, সাংবাদিকতায় প্রতিনিয়ত শিখতে হয়- এই পেশা জ্ঞান আহরণের অন্যতম মাধ্যম।
এছাড়া ২০১৪-২০২৬ সাল পর্যন্ত সাংবাদিকতায় বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় অন্তত ৭ বার বিভিন্ন বিষয়ের ওপর কোর্স করেছি। এরপর থেকেই সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আসছি। তবে, সংবাদ সংশ্লিষ্টতার বাইরে কখনও সাংবাদিক পরিচয় দেইনি, দিতেও চাই না।
কিন্তু বর্তমানে যে কেউ এসেই সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে থাকে। এরপর শুরু হয়, হ-য-ব-র-ল৷ মাঝে মাঝে সাংবাদিক পরিচয় দিতেও ভাবতে হয়, ছেড়ে দিতেও মন চায়।
লেখক: ফরিদপুর প্রতিনিধি, দৈনিক আজকের পত্রিকা

শ্রাবণ হাসান
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬ । ৬:০৮ পূর্বাহ্ণ