ঢাকামুখী শিক্ষক, ফাঁকা ক্লাসরুম—ফরিদপুরের নগরকান্দা কলেজে অচলাবস্থা

এহসানুল হক, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২ মে, ২০২৬ । ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ

ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী সরকারি নগরকান্দা কলেজে শিক্ষার পরিবেশ ভেঙে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনিক দুর্বলতা, শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলা এবং দীর্ঘদিনের অনিয়মে প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়ছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।

১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি ২০১৩ সালে জাতীয়করণ করা হলেও প্রত্যাশিত মানোন্নয়ন হয়নি। বরং নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়া, শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহ বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিতার অভাবে শিক্ষা কার্যক্রম ক্রমেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, নিয়মিত ও মানসম্মত ক্লাস না হওয়ায় তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। অনেক সময় উপস্থিতি কম থাকার অজুহাতে ক্লাসই নেওয়া হয় না। ফলে শিক্ষার ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়ছে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও ব্যাঘাত ঘটছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কলেজের বেশ কয়েকজন শিক্ষক নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। কেউ ঢাকায়, আবার কেউ ফরিদপুর শহরে বসবাস করেন। দূরবর্তী অবস্থান থেকে সমন্বয় করে তারা মাঝে মধ্যে কলেজে আসেন—এমন অভিযোগও রয়েছে। এতে করে নিয়মিত পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এছাড়া শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই বলেও জানা গেছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বায়োমেট্রিক হাজিরা চালু থাকলেও এখানে তা নেই। এমনকি প্রচলিত হাজিরা খাতাও সঠিকভাবে পরিচালিত হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে কে নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন, আর কে নিচ্ছেন না—তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহানা শামীম, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম এবং পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসলিমা আক্তার পারভিনসহ কয়েকজন শিক্ষক।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা। সহকারী অধ্যাপক শাহানা শামীম বলেন, “ঢাকায় বসবাস করলেও আমি নিয়মিত কলেজে গিয়ে দায়িত্ব পালন করি।” একইভাবে তাসলিমা আক্তার পারভিন জানান, “আমার পরিবার ঢাকায় থাকলেও আমি সবসময় সেখানে থাকি না; ফরিদপুর থেকে নিয়মিত কলেজে যাতায়াত করি।”
অন্যদিকে, একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সহযোগী অধ্যাপক শফিকুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফ বলেন, “উপজেলার একমাত্র সরকারি কলেজে নিয়মিত ক্লাস না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে শহরমুখী হবে, যা স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি।”

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জাহিদুল ইসলাম বলেন, “কলেজে শিক্ষক সংকট নেই। তবে শিক্ষার্থী উপস্থিতি কম থাকায় সব বিষয়ের নিয়মিত ক্লাস চালানো যাচ্ছে না। কিছু বিষয়ে একাধিক শিক্ষক থাকায় দূরে বসবাসকারীদের ক্ষেত্রে সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, “শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে শিগগিরই লিখিত নোটিশ দেওয়া হবে এবং শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “সরকারি কলেজ সরাসরি উপজেলা প্রশাসনের অধীনে না থাকলেও অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন