ত্বকের যত্নে ঘরোয়া উপায়ের জনপ্রিয়তা নতুন কিছু নয়। রান্নাঘরে থাকা সাধারণ কিছু উপাদান দিয়েই অনেকেই ত্বক পরিষ্কার, উজ্জ্বল কিংবা ব্রণমুক্ত রাখার চেষ্টা করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউব ভিডিও কিংবা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে এমন অসংখ্য ‘বিউটি টিপস’ ছড়িয়ে আছে। তবে সমস্যা হলো, সব পরামর্শ যে সত্যিই ত্বকের জন্য উপকারী, তা নয়। বরং কিছু উপাদান আছে, যেগুলো ব্যবহার করলে সাময়িকভাবে উপকার মিলছে বলে মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট হওয়া, সংক্রমণ, জ্বালাপোড়া, এমনকি ত্বকের প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই ত্বকের যত্নে সচেতন হওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু বহুল প্রচলিত ঘরোয়া উপাদান মুখে ব্যবহার করা একেবারেই উচিত নয়। জেনে নিন এমনই ৬টি জিনিস সম্পর্কে, যেগুলো দিয়ে কখনোই মুখ পরিষ্কার করা উচিত নয়।
চিনি: অনেকেই চিনি দিয়ে মুখের ত্বক পরিষ্কার করার পরামর্শ দেন। কিন্তু এটি মোটেই ঠিক নয়। কারণ চিনির দানাদার অংশ ত্বকে ক্ষুদ্র ক্ষতের সৃষ্টি করতে পারে। এতে ত্বক কেটে যাওয়ার পাশাপাশি নানা ধরনের সংক্রমণের আশঙ্কাও বেড়ে যায়।
গরম পানি: মুখের ত্বকের জন্য গরম পানি অত্যন্ত ক্ষতিকর। কারণ উষ্ণ জল মুখে ব্যবহার করলে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যায়। ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে।
বেকিং সোডা: অনেকেই মনে করেন, বেকিং সোডা ত্বক খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করে। কিন্তু বাস্তবে এটি একটি ক্ষারজাতীয় উপাদান। এটি ব্যবহারে ত্বকের স্বাভাবিক pH মাত্রার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফলে ত্বকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।
আঠা: ব্ল্যাকহেড পরিষ্কার করতে অনেকে আঠা ব্যবহার করেন। তবে এটি ত্বকের জন্য খুবই ক্ষতিকর। কারণ আঠা ব্যবহারে ত্বকের লোমকূপের ছিদ্র বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা পরবর্তীতে আরও জটিল সমস্যা তৈরি করতে পারে।
লেবু: লেবুর রস দিয়ে মুখ পরিষ্কার করার পরামর্শও অনেক জায়গায় দেখা যায়। কিন্তু এটি ত্বকের জন্য নিরাপদ নয়। লেবুর রস ত্বকের সেই উপাদানগুলোর ক্ষতি করে, যেগুলো সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষা দেয়।
টুথপেস্ট: ব্রণ কমাতে টুথপেস্ট ব্যবহারের পরামর্শ অনেকেই দিয়ে থাকেন। যদিও এতে সাময়িকভাবে ব্রণ শুকিয়ে যেতে পারে, তবে এর ফলে ত্বকে নানা ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
আলুর রস: কাঁচা আলুর রস যে কার্যকরভাবে কালো দাগ বা ক্ষতচিহ্ন হালকা করে, তার কোনো ক্লিনিক্যাল প্রমাণ নেই। এতে প্রাকৃতিকভাবেই সোলানিনের মতো অ্যালকালয়েড থাকে, যা ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকের মাধ্যমে শোষিত হলে উচ্চ মাত্রায় জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে বা বিষাক্তও হতে পারে। রস করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই আলুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো ভেঙে যায়, তাই এর সামান্য উপকারিতাও দীর্ঘস্থায়ী হয় না। বারবার ব্যবহারে কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস বা অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া হতে পারে, বিশেষ করে যদি আপনার ত্বক আগে থেকেই সংবেদনশীল বা প্রদাহযুক্ত থাকে।
কাঁচা ডিম: কাঁচা ডিমে সালমোনেলা নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থাকতে পারে, যা থেকে ত্বক বা চোখে মারাত্মক সংক্রমণ হতে পারে। ডিমের সাদা অংশের মাস্ক ব্যবহারের পর ত্বকে যে টানটান ভাব আসে, তা আসলে শুকিয়ে যাওয়া প্রোটিনের একটি আস্তরণ মাত্র; এটি ত্বককে টানটান করে না বা এর বার্ধক্যও রোধ করে না। আপনার ত্বক ডিমের বড় প্রোটিন শোষণ করতে পারে না, তাই সেগুলো সেখানে নিষ্ক্রিয়ভাবে থেকে যায়। এ ছাড়া কাঁচা ডিমে প্রচুর পরিমাণে ব্যাকটেরিয়া থাকে এবং এটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এটি মুখে মাখলে ব্রণ বা তার চেয়েও খারাপ কিছু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
তাই ত্বকের যত্নে কোনো ঘরোয়া উপায় অনুসরণের আগে সতর্ক হওয়া জরুরি। সব ‘ভাইরাল টিপস’ যে নিরাপদ নয়, সেটি মনে রাখাই ভালো।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস ও এনডিটিভি

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬ । ৭:৫৭ পূর্বাহ্ণ