দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততায় আমরা অনেকেই শরীরের ছোটখাটো অস্বস্তিকে গুরুত্ব দিই না। প্রস্রাবের সময় সামান্য জ্বালাপোড়া, রাতে বারবার বাথরুমে যাওয়া কিংবা কোমরের নিচের দিকে হালকা ব্যথা—এমন উপসর্গগুলোকে আমরা সাধারণত পানিশূন্যতা, ধকল, বয়স বা সাধারণ ইনফেকশন বলে এড়িয়ে চলি।
কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, শরীর অনেক সময় খুব সাধারণভাবেই বড় কোনো বিপদের আগাম বার্তা দেয়। প্রস্রাবের এই সাধারণ সমস্যাগুলোই হতে পারে মূত্রনালি, মূত্রাশয়, কিডনি বা প্রোস্টেট ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ।
নীরব ঘাতক যখন ক্যানসার
মূত্রতন্ত্রের ক্যানসারগুলো অত্যন্ত নিঃশব্দে শরীরে বাসা বাঁধে। ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, মূত্রাশয় বা কিডনির ক্যানসার যদি ছড়িয়ে পড়ার আগেই শনাক্ত করা যায়, তবে তা নিরাময় করা অনেক সহজ হয়। কিন্তু অবহেলার কারণে রোগটি ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসা যেমন জটিল হয়ে ওঠে, তেমনি তা শারীরিক ও আর্থিকভাবেও বিপর্যয় ডেকে আনে।
যে ৬টি লক্ষণ কখনোই এড়িয়ে যাবেন না
চিকিৎসকদের মতে, প্রস্রাবের নিম্নলিখিত পরিবর্তনগুলো দেখলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:
প্রস্রাবের সাথে রক্ত: এটি সবচেয়ে আশঙ্কাজনক লক্ষণ। ব্যথা ছাড়াই যদি প্রস্রাবের সাথে মাত্র একবারও রক্ত দেখা যায়, তবে তাকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ: বিশেষ করে রাতে যদি বারবার বাথরুমে যেতে হয়, তবে তা উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া: সাধারণ ইনফেকশন ভেবে প্রস্রাবের সময়ের জ্বালাপোড়াকে দীর্ঘকাল অবহেলা করা ঠিক নয়।
প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে সমস্যা: প্রস্রাবের বেগ ধরে রাখতে কষ্ট হওয়া কিংবা প্রস্রাবের ধারা বা ফ্লো দুর্বল হয়ে যাওয়া।
অব্যাহত বেগ অনুভব করা: প্রস্রাব করার পরও মনে হওয়া যে আরও প্রস্রাব বাকি আছে অথবা সারাক্ষণ একটি তাগিদ অনুভব করা।
তলপেট বা পিঠে ব্যথা: তলপেটে অস্বস্তি কিংবা কোমরের নিচের দিকে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা হওয়া।
কেন দ্রুত শনাক্তকরণ জরুরি?
রেডিয়েশন অনকোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. অনিল থাকওয়ানি জানান, ‘অনেকে বয়সজনিত সমস্যা মনে করে এসব লক্ষণ লুকিয়ে রাখেন। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী এই উপসর্গগুলো মূত্রনালির ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে। রোগ দেরিতে ধরা পড়লে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়’। আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যানসার ধরা পড়লে সার্জারি বা রেডিয়েশনের মাধ্যমে তা সফলভাবে নিরাময় সম্ভব।
কারা বেশি ঝুঁকিতে আছেন?
৫০ বছরোর্ধ্ব ব্যক্তি, ধূমপায়ী এবং যারা কলকারখানার রাসায়নিকের সংস্পর্শে কাজ করেন, তাদের ঝুঁকি বেশি। বিশেষ করে ধূমপান মূত্রাশয় ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ। এ ছাড়া পরিবারের কারও ক্যানসার ইতিহাস থাকলেও সতর্ক থাকতে হবে।
লজ্জা নয়, সচেতনতাই জীবন বাঁচায়
আমাদের সমাজে অনেকেই প্রস্রাবের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে দ্বিধা বা লজ্জা বোধ করেন। এই লজ্জার কারণে চিকিৎসা নিতে দেরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত জীবনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। মনে রাখবেন, মাত্র কয়েক দিনের অবহেলা ভবিষ্যতে কঠিন লড়াইয়ের কারণ হতে পারে। শরীর কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখালে লজ্জা ঝেড়ে ফেলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬ । ৭:০৩ পূর্বাহ্ণ