টানা ৩৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা, দুর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬ । ১:০৫ অপরাহ্ণ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার সদর ইউনিয়নের জাটিগ্রাম এলাকায় টানা প্রায় ৩৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। সোমবার বিকেল থেকে বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও খামারিরা। ফ্রিজে রাখা খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করলেও অধিকাংশ সময় ফোন রিসিভ করা হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যার আগে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় শুরু হওয়ার পর থেকেই জাটিগ্রাম পূর্বপাড়া, পালপাড়া ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে গ্রামবাসীর মধ্যে।

জাটিগ্রাম পূর্বপাড়ার মুদি দোকানি লিয়াকত আলী বলেন, “ঝড়ের আগেই বিদ্যুৎ চলে যায়। দুই দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। ফ্রিজে রাখা আইসক্রিম ও অন্যান্য খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দোকানে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছি।”

এসএসসি পরীক্ষার্থী ইমতিয়াজ সরদার বলেন, “পরীক্ষার সময় বিদ্যুৎ না থাকায় খুব কষ্ট করে পড়াশোনা করতে হয়েছে। রাতে গরমে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারিনি।”

একই এলাকার শাহজানাহ স্টোরের মালিক শাহজাহান শরীফ অভিযোগ করে বলেন, “এ এলাকায় তেমন কোনো বড় ক্ষতি হয়নি, তারপরও বিদ্যুৎ আসছে না। অফিসে ফোন দিলে কখনও ধরে, আবার বেশিরভাগ সময় ধরে না। ধরলেও শুধু বলে একটু পর বিদ্যুৎ আসবে।”

বিদ্যুৎ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন খামারিরাও। গরুর খামারি ফারুক মিয়া ও কাফুজার মোল্যা জানান, কোরবানির জন্য পালন করা সংকর জাতের গরুগুলোকে সারাক্ষণ ফ্যানের বাতাসে রাখতে হয়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে গরুগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

জাটিগ্রাম পালপাড়ার বাসিন্দা সুজন পাল বলেন, “ফ্রিজে রাখা মাছ ও অন্যান্য খাবার নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বাধ্য হয়ে একসঙ্গে কয়েক ধরনের মাছ রান্না করেছি। আশপাশের অনেক পরিবারের একই অবস্থা।”

এদিকে শুধু জাটিগ্রাম নয়, উপজেলার আরও কয়েকটি প্রত্যন্ত এলাকায় কম ভোল্টেজ ও অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ। মোবাইল চার্জ, বিশুদ্ধ পানি সংরক্ষণ ও অনলাইন কার্যক্রমেও চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাব-জোনাল অফিসের এজিএম আসীস কুমার রায় বলেন, “সোমবারের কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ধাপে ধাপে সংযোগ চালু করা হচ্ছে। জাটিগ্রাম অঞ্চলের লাইনের ট্রান্সফরমারের ফিউজ নষ্ট হয়েছে। নতুন ফিউজ স্থাপনের কাজ চলছে। আশা করছি আজ বুধবার দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হবে।”

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন