ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় কৃষককে কুপিয়ে জখম

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬ । ২:৫৪ অপরাহ্ণ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মাদক কেনাবেচার প্রতিবাদ করায় মো. রহমান খান (৫০) নামের এক কৃষককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে এক গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই কৃষককে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

​আহত কৃষক রহমান খান ভাটপাড়া গ্রামের মোশারফ খানের ছেলে। অন্যদিকে অভিযুক্ত নবীর শিকদার (৩৫) একই গ্রামের আরমান শিকদারের ছেলে এবং পেশায় একজন গ্রাম পুলিশ।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে কৃষক রহমান খান তার বাড়ির পাশে পশ্চিম মাঠে স্থাপন করা সাবমার্সিবল সেচ পাম্পটি দেখভাল করতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান গ্রাম পুলিশ নবীর শিকদার গভীর রাতে অবৈধ মাদক কেনাবেচা করছেন। একজন সরকারি আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হয়েও এমন অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকায় রহমান খান এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। এতে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন নবীর শিকদার। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি সঙ্গে থাকা ধারালো অস্ত্র নিয়ে কৃষকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে রক্তাক্ত জখম করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে মাঠের মধ্য থেকে আহত কৃষকের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

​আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থেকে খোদ গ্রাম পুলিশের এমন মাদক কারবার এবং প্রতিবাদ করায় সাধারণ কৃষককে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত নবীর শিকদার পলাতক রয়েছেন।

​ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশ নবীর শিকদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও ফোনটি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

​আহত কৃষকের পরিবার জানিয়েছে, এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ব্যস্ত থাকায় অভিযোগ জমা দিতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।

​আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন