ঈদ সামনে রেখে ফরিদপুরে জমজমাট অস্থায়ী খাসি-ছাগলের হাট

মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬ । ৮:০০ অপরাহ্ণ

পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে ফরিদপুর পৌর এলাকার বিসর্জন ঘাটে বসেছে অস্থায়ী খাসি ও ছাগলের জমজমাট হাট।

রোববার (২৪ মে) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ হাটে দিনভর চলে ব্যাপক বেচাকেনা। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো হাট এলাকা। ঈদকে ঘিরে কোরবানির পশু কেনাবেচায় যেন উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে সেখানে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ৯টা থেকেই একে একে খাসি, ছাগল ও ভেড়া নিয়ে হাটে আসতে থাকেন বিক্রেতারা। দুপুরের পর ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করলে জমে ওঠে দরদাম ও কেনাবেচা। সন্ধ্যা পর্যন্ত হাটে ছিল উপচেপড়া ভিড়। কেউ পরিবার নিয়ে পশু কিনতে এসেছেন, আবার কেউ ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে একাধিক পশু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

হাটে ফরিদপুর শহর ছাড়াও সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, ভাঙ্গা, নগরকান্দা, বোয়ালমারী, মধুখালী ও রাজবাড়ী জেলার কিছু এলাকা থেকেও বিক্রেতারা পশু নিয়ে এসেছেন। স্থানীয় খামারিদের পাশাপাশি ছোট ব্যবসায়ীরাও তাদের পালিত খাসি ও ছাগল নিয়ে অংশ নেন এ হাটে।

বিক্রেতারা জানান, অন্যান্য বড় পশুর হাটের তুলনায় এখানে হাসিল তুলনামূলক কম হওয়ায় তারা স্বাচ্ছন্দ্যে পশু নিয়ে আসতে পারছেন। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ভালো থাকায় চুরি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ভয় কম। ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতা—দুই পক্ষই সন্তুষ্ট।

হাটে বিভিন্ন জাত ও আকারের খাসি, ছাগল ও ভেড়া বিক্রি হতে দেখা গেছে। ছোট আকারের খাসির দাম শুরু হয়েছে ৮ হাজার টাকা থেকে। মাঝারি আকারের খাসি ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় ও উন্নত জাতের খাসির দাম উঠেছে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এছাড়া ভেড়ার দাম ৮ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে ওঠানামা করতে দেখা গেছে। অনেক ক্রেতা দরদাম করে পছন্দের পশু কিনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, “এখানে পশুর দাম মোটামুটি সহনীয়। তাছাড়া পরিবেশ ভালো হওয়ায় পরিবার নিয়ে এসে স্বাচ্ছন্দ্যে পশু দেখা যাচ্ছে।”

আরেক বিক্রেতা আব্দুল কাদের জানান, “সকাল থেকেই ভালো বেচাকেনা হচ্ছে। আশা করছি আগামী হাটে আরও বেশি ক্রেতা আসবে।”

হাটের ইজারাদার জয়নাল আবেদীন চৌধুরী জানান, ঈদ উপলক্ষে আয়োজিত এ অস্থায়ী হাটে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিজস্ব ভলান্টিয়ার টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া পুরো হাট এলাকায় সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি রাখা হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

তিনি আরও জানান, আগামী বুধবার ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে আরও একটি বড় হাট অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে আরও বেশি পশু আসবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

স্থানীয়রা মনে করছেন, ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, ততই জমে উঠবে ফরিদপুরের এসব অস্থায়ী পশুর হাট। এতে একদিকে যেমন খামারিরা লাভবান হবেন, অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতারাও তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী কোরবানির পশু কিনতে পারবেন।

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন