ফরিদপুরে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৯১ জন হাম রোগী। এ নিয়ে চলতি বছরে জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে।
রবিবার (৩১ মে) সকালে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রুকসানা (৪ মাস) ও তাসিন (৮ মাস) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ফরিদপুর জেলায় মোট ২ হাজার ১২৮ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই শিশু, যা স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য বাড়তি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নতুন করে ৯১ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। উপজেলাভিত্তিক আক্রান্তদের মধ্যে সালথায় সবচেয়ে বেশি ২২ জন, আলফাডাঙ্গায় ২১ জন, সদরপুরে ১৪ জন, ভাঙ্গায় ১২ জন, মধুখালীতে ৬ জন, ফরিদপুর সদরে ৫ জন এবং নগরকান্দায় ২ জন রয়েছেন। এছাড়া বোয়ালমারী ও চরভদ্রাসন উপজেলাতেও নতুন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে।
হাসপাতালভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে সেখানে ৬৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ পর্যন্ত হাসপাতালটি থেকে ৫৫৬ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
অন্যদিকে, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন করে ৫৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১১৮ জন হাম রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৭ জন রোগী হাসপাতাল ছেড়েছেন। এ পর্যন্ত হাসপাতালটি থেকে ১ হাজার ২৫৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
দুই হাসপাতালে বর্তমানে মোট ১৮৩ জন হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৪৫ জন রোগী।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। টিকাদান কর্মসূচির আওতায় থাকা শিশুদের শতভাগ টিকা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, “হাম প্রতিরোধে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানোই বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ হামের বিস্তার রোধে সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬ । ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ