ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের পাঁচকাইচাইল গ্রামে দীর্ঘ প্রায় ২৮ বছর ধরে ব্যবহৃত একটি কবরস্থানের জমি নিয়ে চরম বিরোধ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই গ্রামের মানুষের ব্যবহৃত কবরস্থানের জমি গোপনে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন সারোয়ার মাতুব্বর নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাঁচকাইচাইল ও মাঝিকান্দা গ্রামের মানুষের জন্য প্রায় তিন দশক আগে কবরস্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয় জমিটি। এরপর থেকে দুই গ্রামের বাসিন্দারা তাদের স্বজনদের এই কবরস্থানে দাফন করে আসছেন। এলাকাবাসীর দাবি, বর্তমানে সেখানে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন মৃত ব্যক্তির কবর রয়েছে।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, সম্প্রতি সারোয়ার মাতুব্বর ওই জমির মালিকানা দাবি করে নিজের নামে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেছেন। শুধু তাই নয়, কবরস্থানের একটি অংশে বাথরুম নির্মাণ এবং সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কবরস্থান শুধু একটি জমি নয়, এটি মৃত মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল এবং এলাকার মানুষের আবেগ ও ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত একটি স্থান। দীর্ঘদিন ধরে কবরস্থান হিসেবে ব্যবহৃত জায়গা নিয়ে মালিকানা বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, “আমাদের বাবা-দাদা, আত্মীয়-স্বজনের কবর এখানে রয়েছে। এই জমি যদি ব্যক্তিগত মালিকানায় চলে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে কবরস্থানটি হুমকির মুখে পড়বে। আমরা কবরস্থানের জমি সংরক্ষণ ও স্থায়ী সমাধান চাই।”
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। ফলে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দিন দিন বাড়ছে।
অভিযুক্ত সারোয়ার মাতুব্বর দাবি করেন, “আমি প্রকৃত মালিকের কাছ থেকে অনেক আগে মৌখিকভাবে জমিটি ক্রয় করেছি। প্রায় এক মাস আগে জমিটি রেজিস্ট্রি করে নিজের নামে দলিল করেছি। এখন গ্রামের লোকজন জমিটি ফেরত চাইছে।”
তবে দীর্ঘদিন ধরে কবরস্থান হিসেবে ব্যবহৃত একটি জমি এত বছর পর নিজের নামে রেজিস্ট্রেশন করার কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
বুধবার (৪ জুন) বিষয়টি নিয়ে সরেজমিনে তৎপরতা শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন। কাইচাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা খান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা ও সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
কাইচাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা খান বলেন, “কবরস্থানের জমি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ নিরসনে আমরা কাজ করছি। এলাকার মুরুব্বি ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। কবরস্থানের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবাইকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আমি নিজে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।”

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬ । ৫:৪৭ অপরাহ্ণ