ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক মসজিদের ইমামকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে আপন চার ভাই, এক বোন এবং দুই ভাইয়ের স্ত্রীর বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্ত পক্ষ দাবি করেছে, আহত ইমামই প্রথমে হামলা চালিয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
বুধবার (০৩ জুন) সন্ধ্যার আগে উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের কঠুরাকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত শফিকুল ইসলাম (৪৫) কঠুরাকান্দি গ্রামের মৃত গোলাম রহমান মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত এবং নগরকান্দা জামে মসজিদে ইমামতি করেন।
শফিকুল ইসলামের স্ত্রী তাছলিমা বেগম আলফাডাঙ্গা থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার স্বামীর সঙ্গে বড় ভাই নুরুল ইসলাম টুকুসহ চার ভাই ও এক বোনের বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে বুধবার সন্ধ্যার পূর্বমুহূর্তে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে গালাগাল শুরু করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গালাগালের প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা শফিকুল ইসলামের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার মাথা ও হাতের আঙুলে গুরুতর জখম হয়েছে এবং সেখানে মোট ১২টি সেলাই দিতে হয়েছে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছে, শফিকুল ইসলামই তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন।
অভিযুক্ত কিবরিয়া মিয়া ও তার স্ত্রী পারভিন বেগম জানান, ঘটনার সময় শফিকুল ইসলাম তাদের পরিবারের এক নারী সদস্যের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও অশ্লীল ভাষায় কথা বলেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পারভিন বেগমও আহত হন এবং তাকেও আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।
এ ঘটনায় বুধবার রাতেই কিবরিয়া মিয়া বাদী হয়ে শফিকুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, “উভয় পক্ষের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি মূলত পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ঘটেছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬ । ৭:০৩ অপরাহ্ণ