ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় প্রশাসনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে একটি বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কনের বাবাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং বিয়ের জন্য প্রস্তুত করা খাবার জব্দ করে একটি এতিমখানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার কামালদিয়া ইউনিয়নের টাকদিয়া গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করেন মধুখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিক দত্ত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত এক কিশোরীর সঙ্গে বিয়ের আয়োজন চলছিল। বাড়িতে বিয়ের সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছিল এবং বরযাত্রী আসার অপেক্ষা চলছিল। এমন সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিক দত্ত জানান, খবর পাওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। তদন্তে কনের বয়স বিয়ের জন্য নির্ধারিত আইনগত বয়সের নিচে হওয়ায় বাল্যবিবাহের সত্যতা পাওয়া যায়। এ কারণে বাল্যবিবাহের আয়োজন করায় কনের বাবাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
তিনি আরও জানান, প্রশাসনের অভিযানের খবর পেয়ে বরপক্ষ আর ঘটনাস্থলে আসার সাহস করেনি। পরে বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য রান্না করা খাবার জব্দ করে স্থানীয় একটি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে কনের পরিবারের সদস্যদের বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব, আইনি জটিলতা এবং মেয়েদের শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা হয়।
প্রতিক দত্ত বলেন, “বাল্যবিবাহ শুধু একটি সামাজিক ব্যাধিই নয়, এটি শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক বিকাশের পথে বড় বাধা। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে। কোনো এলাকায় এ ধরনের তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং ছেলেদের ২১ বছর। এর কম বয়সে বিয়ের আয়োজন বা সহযোগিতা করা দণ্ডনীয় অপরাধ।

মো. ইনামুল খন্দকার, মধুখালী:
প্রকাশের সময়: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬ । ৫:৪৯ অপরাহ্ণ