ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় একটি বিয়ে বাড়ির ভোজ অনুষ্ঠানে মাংস খাওয়া ও খাবারের অপচয়কে কেন্দ্র করে কনে পক্ষ এবং স্থানীয় গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিষয়টির মীমাংসা করা হয়।
সোমবার (০৮ জুন) বিকেলে উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের দেওড়া নয়াকান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন আরিফ মিয়া, সহিদ মাতুব্বর, ছোরাপ মাতুব্বর ও মমতাজ বেগমসহ কয়েকজন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেওড়া নয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা লাভলু শেখের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে বরযাত্রী, আত্মীয়-স্বজন এবং এলাকার লোকজনকে দাওয়াত দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে খাওয়ার সময় কয়েকজন ব্যক্তি টেবিলের নিচে মাংস জমা করে রাখেন এবং খাবারের অপচয় করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ বিষয়টি নিয়ে কনে পক্ষের লোকজন আপত্তি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
স্থানীয়রা জানান, সামান্য বিষয় নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধ দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘটনার সময় বিয়ের অনুষ্ঠানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অতিথিদের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।
কালামৃধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল মাতুব্বর বলেন, “বিয়ে বাড়িতে খাওয়াদাওয়াকে কেন্দ্র করে পাশের বাড়ির কিছু লোকজনের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কয়েকজন আহত হয়েছেন। স্থানীয়ভাবে বসে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।”
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠানে মাংস খাওয়াকে কেন্দ্র করে গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন আহত হন। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। স্থানীয় মুরব্বিদের উদ্যোগে বিষয়টির মীমাংসা হয়েছে।”

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশের সময়: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬ । ১০:১৬ অপরাহ্ণ