সদরপুরে বসতভিটা দখলচেষ্টা ও গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬ । ৮:১১ অপরাহ্ণ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় আদালতের স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাসকো) আদেশ উপেক্ষা করে বসতভিটা দখলের চেষ্টা, গৃহবধূকে মারধর এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সদরপুর উপজেলার পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা মমতাজ বেগম। তিনি দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা তার বসতবাড়ি ও সংলগ্ন জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে তাকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছে।

মামলা ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মমতাজ বেগম তার তিন ভাইয়ের কাছ থেকে মৌখিক চুক্তির মাধ্যমে বসতবাড়িসহ অতিরিক্ত ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি প্রায় ১০ লাখ টাকায় ক্রয় করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস ও ভোগদখল করে আসছেন। তবে পরবর্তীতে তার দুই ভাই শাহাদাত বেপারী ও লিটন বেপারী একই সম্পত্তি ২০২৬ সালের ২০ জানুয়ারি ২৮৫ নম্বর দলিলমূলে ফাহিমা বেগমের কাছে বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিষয়টি জানতে পেরে মমতাজ বেগম সদরপুর সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, ভাঙ্গা, ফরিদপুরে দেওয়ানি মামলা (নং-৭৮/২০২৬) দায়ের করেন। মামলাটি বাটোয়ারা ও ‘বাই-আপ’ সংক্রান্ত বলে জানা গেছে।

মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মহিউদ্দিন জানান, মামলার শুনানি শেষে আদালত বিতর্কিত সম্পত্তির বিষয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে জবাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষ সম্পত্তির বর্তমান অবস্থা পরিবর্তন করতে পারবে না।

তিনি অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বিবাদীপক্ষ ওই সম্পত্তিতে প্রবেশের চেষ্টা করছে এবং তার মক্কেলকে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে। এমনকি স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্যবহার করে তাকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

ভুক্তভোগী মমতাজ বেগম বলেন, “আমি আমার ভাইদের কাছ থেকে জমি কিনে বছরের পর বছর বসবাস করছি। কিন্তু তারা আমাকে না জানিয়ে অন্যের কাছে জমি বিক্রি করে দেয়। পরে আমি আদালতের শরণাপন্ন হই। আদালত আমার পক্ষে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিলেও প্রতিপক্ষ তা মানছে না। বরং আমাকে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি এবং জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় থানা পুলিশের পক্ষ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাচ্ছেন না। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, সদরপুর থানার ৩৬ নম্বর শ্যামপুর মৌজার বিএস ১০৬১ নম্বর খতিয়ান ও বিএস ৩৭৭৭ নম্বর দাগভুক্ত জমির অংশবিশেষ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। আদালত বিতর্কিত ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ জমির বিষয়ে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দিয়েছেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

এ বিষয়ে সদরপুর থানার এসআই মোহাম্মদ মোখলেছের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে ফাহিমা বেগম ও অভিযুক্ত অন্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন