নগরকান্দায় ইউএনওর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, বিনামূল্যে চীনা ভাষা শিখছে ১৭৫ শিক্ষার্থী

এহসানুল হক মিয়া, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬ । ২:১০ অপরাহ্ণ

ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিতে এবং বৈশ্বিক যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম। তাঁর উদ্যোগে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চীনা ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে দুই উপজেলার ১৭৫ জন শিক্ষার্থী।

উপজেলা প্রশাসনের এই অভিনব উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী অর্থনীতি চীনের ভাষা শেখার সুযোগ ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, প্রযুক্তি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।

জানা গেছে, গত ৪ এপ্রিল নগরকান্দা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় বিদেশগামী বাংলাদেশিদের জন্য বিদেশি ভাষা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শামা ওবায়েদ ইসলাম। তাঁর দিকনির্দেশনা এবং ইউএনও সাইফুল ইসলামের পরিকল্পনায় পরবর্তীতে চালু হয় চীনা ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম।

প্রকল্পের আওতায় নগরকান্দার পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২৫ জন করে মোট ১৫০ জন এবং সালথার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আরও ২৫ জন শিক্ষার্থী চীনা ভাষা শিক্ষা গ্রহণ করছে। অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগই অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

নগরকান্দার লস্করদিয়া আতিকুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়, তালমা নাজিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, এমএন একাডেমি, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আক্রামুন্নেসা বালিকা বিদ্যালয় ও কৃষ্ণারডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া সালথার নবকাম পল্লী কলেজের শিক্ষার্থীরাও এ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমে ওই কলেজ থেকেই কার্যক্রমটির যাত্রা শুরু হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে চীন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি। ফলে চীনা ভাষা জানা থাকলে আন্তর্জাতিক বৃত্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হয়।

এই কোর্সের অন্যতম আকর্ষণ হলো—চীনে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে সরাসরি ক্লাস পরিচালনা করছেন। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষায় উচ্চশিক্ষা শেষে বর্তমানে চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করছেন। পাশাপাশি ঢাকার লিড একাডেমির অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকরাও নিয়মিত পাঠদান করছেন। ফলে গ্রামীণ পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও আন্তর্জাতিক মানের ভাষা শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে।

উদ্যোগটি বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন দুই সমাজসেবক ও শিল্পপতি। নগরকান্দার শিক্ষার্থীদের জন্য অর্থায়ন করছেন হানিফ মণ্ডল এবং সালথার শিক্ষার্থীদের সহায়তা করছেন ইদ্রিস আলী মোল্লা।

চীনা ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নাজমুন নাহার পলি। তিনি বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের চীনা ভাষা প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এবং দেশে চীনা ভাষার প্রসারে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন।

নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, “বর্তমান বিশ্বে চীনা ভাষার গুরুত্ব দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। উচ্চশিক্ষা, প্রযুক্তি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারে এ ভাষা জানা শিক্ষার্থীরা বিশেষ সুবিধা পাবে। আমাদের লক্ষ্য গ্রামীণ শিক্ষার্থীদেরও বিশ্বমানের দক্ষতার সঙ্গে পরিচিত করা। এই উদ্যোগ তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করেছেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হলে গ্রামের শিক্ষার্থীরাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ পাবে। নগরকান্দা ও সালথায় শুরু হওয়া এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন