অবকাঠামোগত সংকটের কারণে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী সরকারি নগরকান্দা কলেজে। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের অভাব, জরাজীর্ণ ভবন এবং দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন কার্যক্রমে ধীরগতির কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কলেজমুখী আগ্রহ কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি দীর্ঘ সময় ধরে এ অঞ্চলের উচ্চশিক্ষার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। ২০১৩ সালে কলেজটি সরকারি করা হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে মনে করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কলেজের পুরনো টিনশেড ভবন এবং একটি একতলা ভবন বর্তমানে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ফলে সীমিত কয়েকটি শ্রেণিকক্ষের ওপর নির্ভর করেই পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে নিয়মিত ক্লাস গ্রহণ, পরীক্ষা আয়োজন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় মোট ২৮০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। এর আগের শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৩৯৮ জন। সংশ্লিষ্টদের মতে, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাব শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে।
শিক্ষার্থীরা জানান, অনেক সময় পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় ক্লাসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একাধিক বিভাগের ক্লাস সমন্বয় করে পরিচালনা করতে হয়। এতে পাঠদানের মান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যেও হতাশা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় অভিভাবকদের ভাষ্য, একটি সরকারি কলেজ হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান না হওয়া দুঃখজনক। তারা দ্রুত আধুনিক ও বহুতল একাডেমিক ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কলেজটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। জরাজীর্ণ পরিবেশে শিক্ষার্থীরা পাঠগ্রহণে অনাগ্রহী হয়ে পড়ছে। শিক্ষার মান উন্নয়নে দ্রুত আধুনিক ভবন নির্মাণ জরুরি।”
সরকারি নগরকান্দা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জাহিদুল ইসলাম বলেন, “ভবন সংকটের কারণে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনায় নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়লে কক্ষ সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে। পরীক্ষার সময়ও অতিরিক্ত কক্ষের প্রয়োজন হয়। কলেজে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।”
এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন জানান, কলেজে ছয়তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের আবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন ও বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে। তবে এরই মধ্যে পুরনো টিনশেড ভবন সংস্কার এবং ঝুঁকিপূর্ণ একতলা ভবন অপসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
‘উপজেলা সদরের একমাত্র সরকারি কলেজ হিসেবে সরকারি নগরকান্দা কলেজে মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। দ্রুত অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হলে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহ আরও কমে যেতে পারে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে পুরো অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর’- এমনটাই দাবি স্থানীয়দের।

এহসানুল হক মিয়া, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬ । ৩:৪৩ অপরাহ্ণ