ফরিদপুরে দোকানে আটকে রেখে ব্যবসায়ীকে মারধর, আড়াই লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬ । ৬:০৯ অপরাহ্ণ

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে এক ব্যবসায়ীকে মারধর, জোরপূর্বক দোকানে আটকে রাখা এবং একটি কোর্ট ফাইল থেকে নগদ আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও প্রতিকার না পাওয়ার দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী।

বুধবার (৮ জুলাই) বোয়ালমারীর পৌরসদরের পুরাতন ব্রিজ সংলগ্ন নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন বোয়ালমারী বাজারের কাঠ চিরাইকল ও ইটভাটার মালিক আহসানুল কবির (হেলাল মিয়া)।

সংবাদ সম্মেলনে বোয়ালমারী পৌরসভার রায়পুর গ্রামের মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. মাসুদ (৪০) ও মো. মামুন (৩৮), একই গ্রামের মৃত ওহেদ মোল্যার ছেলে আজিজুর রহমান (৫৫) এবং মো. মিজান মোল্যা (৪৫) এর বিরুদ্ধে মারপিট, আটক রাখা ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলেছেন।

আহসানুল কবির বলেন, অভিযুক্তদের সঙ্গে তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এর জেরে গত ৪ জুলাই বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নিজস্ব প্রাইভেটকারে এসি কেনার উদ্দেশ্যে ফরিদপুর যাওয়ার পথে বোয়ালমারী নিউ মার্কেট এলাকায় পৌঁছালে অভিযুক্তরা মোটরসাইকেল দিয়ে তার গাড়ির গতিরোধ করেন।

তার দাবি, মাসুদ ও মামুন গাড়ির দরজা খুলে তাকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে মারধর করেন। পরে অন্য অভিযুক্তরাও হামলায় অংশ নিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। একপর্যায়ে মাসুদ তার একটি কোর্ট ফাইল নিয়ে যান। ওই ফাইলের মধ্যে নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, পরে তাকে জোরপূর্বক অভিযুক্তদের কাপড়ের দোকানে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে তার স্ত্রী ঘটনাস্থলে এসে প্রথমে থানায় সহায়তা চাইলেও তাৎক্ষণিক সাড়া না পেয়ে মেয়ের মাধ্যমে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে বোয়ালমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। পুলিশ তার ফাইলটি উদ্ধার করলেও ভেতরে থাকা নগদ টাকা পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন। আহত অবস্থায় তাকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

আহসানুল কবির অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে থানায় এজাহার দিলেও চার দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা রেকর্ড বা দৃশ্যমান কোনো আইনগত অগ্রগতি হয়নি। তিনি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে। তার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি যে অভিযোগ করেছেন, পুলিশ নিষ্ক্রিয় রয়েছে, এটি সঠিক নয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী মামলা রুজু করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন