“ডাক্তার সাহেব, আমার বাচ্চার ঠান্ডা-কাশি যেন ভালোই হতে চায় না! ওষুধ খেলে কিছুদিন ভালো থাকে, আবার শুরু হয়ে যায়। কেন এমন হচ্ছে?”
চেম্বারে অভিভাবকদের কাছ থেকে এই প্রশ্নটি প্রায়ই শুনা যায়। আসলে শিশুদের বারবার ঠান্ডা-কাশি হওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। সব শিশুর কারণও এক নয়।
🔹 প্রধান কারণগুলো হলো—
১. বারবার ভাইরাস সংক্রমণ:
ছোট শিশুদের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা এখনও পুরোপুরি পরিপক্ব হয়নি। স্কুল, ডে-কেয়ার বা অন্য শিশুদের সংস্পর্শে এলে তারা বারবার বিভিন্ন ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। তাই বছরে কয়েকবার ঠান্ডা-কাশি হওয়া অনেক শিশুর ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক।
২. অ্যালার্জির প্রবণতা:
যেসব শিশুর নিজের বা পরিবারের সদস্যদের অ্যালার্জি, অ্যাজমা বা একজিমার ইতিহাস আছে, তাদের বারবার নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি, নাক বন্ধ ও কাশি হতে পারে।
৩. অ্যাজমা বা বারবার Wheezing হওয়া:
শিশুর কাশির সঙ্গে যদি বুকে বাঁশির মতো শব্দ হয়, শ্বাসকষ্ট হয়, রাতে বা ভোরে কাশি বাড়ে অথবা দৌড়ালে-খেলাধুলা করলে কাশি বেড়ে যায়—তাহলে অ্যাজমা বা wheezing-এর প্রবণতা আছে কি না, তা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
৪. নাকের অ্যালার্জি ও অ্যাডিনয়েড বড় হওয়া:
শিশুর নাক বন্ধ থাকা, মুখ হাঁ করে ঘুমানো, নাক ডাকা, বারবার সর্দি হওয়া এবং গলায় সর্দি পড়ার কারণে দীর্ঘদিন কাশি থাকতে পারে।
৫. পরিবেশগত কারণ:
ধুলাবালি, ধোঁয়া, সিগারেটের ধোঁয়া, বায়ুদূষণ, তীব্র সুগন্ধি বা অন্যান্য irritant শিশুর শ্বাসনালির সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।
৬. অপুষ্টি ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যা:
শিশুর সুষম পুষ্টির অভাব বা কিছু অন্তর্নিহিত অসুস্থতার কারণে সংক্রমণের প্রবণতা বাড়তে পারে। তবে বারবার ঠান্ডা-কাশি হলেই শিশুর “রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম”—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
৭. কিছু ক্ষেত্রে অন্যান্য রোগ:
দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ, যক্ষ্মা, জন্মগত হৃদ্রোগ, ফুসফুসের সমস্যা, খাবার বা অন্য কিছু শ্বাসনালিতে চলে যাওয়া এবং বিরল ক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার সমস্যার কারণেও বারবার বা দীর্ঘদিন কাশি হতে পারে।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
শিশুর শ্বাসকষ্ট হলে, বুক দেবে গেলে, ঠোঁট নীলচে হয়ে গেলে, দীর্ঘদিন জ্বর থাকলে, কাশির সঙ্গে রক্ত গেলে, বারবার নিউমোনিয়া হলে, ওজন না বাড়লে বা শিশুকে বারবার হাসপাতালে ভর্তি করতে হলে অবশ্যই বিস্তারিত মূল্যায়ন প্রয়োজন।
অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ:
শিশুর বারবার ঠান্ডা-কাশি হলেই ভয় পাবেন না, আবার অবহেলাও করবেন না।
শুধু প্রতিবার কাশির ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানোই সমাধান নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো—কেন শিশুর বারবার ঠান্ডা-কাশি হচ্ছে, সেই কারণটি খুঁজে বের করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও নিয়মিত ফলোআপ করা।
মনে রাখবেন, সঠিক কারণ নির্ণয়, উপযুক্ত চিকিৎসা এবং নিয়মিত ফলোআপের মাধ্যমে অধিকাংশ শিশুর বারবার ঠান্ডা-কাশির সমস্যা ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
লেখক: শিশু বিশেষজ্ঞ, ফরিদপুর।

ডা. মো. শাহিনুল ইসলাম
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬ । ৬:৫০ পূর্বাহ্ণ