ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকীর মুঠোফোন নম্বর ক্লোন করে তার পরিচয়ে টাকা দাবি করছে একটি প্রতারক চক্র। ইতোমধ্যে ওই প্রতারণার ফাঁদে পড়ে তার এক সহকারী বিকাশের মাধ্যমে মোট ৪০ হাজার ৫৪০ টাকা পাঠিয়ে প্রতারিত হয়েছেন।
এ ঘটনায় প্রতারণার শিকার শহরের গুহলক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা মো. নাঈম মোল্লা (৩৩) রোববার (১৯ জুলাই) ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তিনি ফজলুল হকের ছেলে এবং কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকীর সহকারী হিসেবে কাজ করেন।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, রোববার দুপুর ১২টা ২৪ মিনিটে কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকীর ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে নাঈম মোল্লার হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা আসে। সেখানে বিকাশ নম্বর ০১৮৭৬৩৪১৬৩৫-এ জরুরি ভিত্তিতে ১০ হাজার টাকা পাঠাতে বলা হয়। পরিচিত ব্যক্তির নম্বর থেকে বার্তা আসায় কোনো সন্দেহ না করে তিনি দুপুর ১২টা ৩৬ মিনিটে টাকা পাঠিয়ে দেন।
এরপর আরেকটি বিকাশ নম্বর ০১৮২৪২৭২৯৫৭-এ আরও ৩০ হাজার ৫৪০ টাকা পাঠানোর অনুরোধ করা হলে তিনিও সেটি পাঠিয়ে দেন। পরে তৃতীয় আরেকটি নম্বর ০১৮৯৭৩৬৪৯৮২-এ আরও ২০ হাজার টাকা পাঠাতে বলা হলে তার সন্দেহ হয়। এরপর তিনি সরাসরি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানতে পারেন, তার মুঠোফোন নম্বর ক্লোন করে প্রতারক চক্র এই প্রতারণা চালাচ্ছে। তখনই তিনি বুঝতে পারেন, মোট ৪০ হাজার ৫৪০ টাকা তিনি প্রতারকদের হাতে তুলে দিয়েছেন।
ঘটনার পর রোববার বিকেল ৪টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন পিয়াল এক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, প্রেসক্লাব সভাপতির নম্বর ক্লোন করে হ্যাকাররা বিভিন্ন ব্যক্তি ও পরিচিতজনের কাছে টাকা দাবি করছে। তিনি সবাইকে অনুরোধ করেন, ওই নম্বর থেকে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তার অনুরোধ এলে অবশ্যই ফোন করে পরিচয় নিশ্চিত হতে। একই সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই ওটিপি, বিকাশ পিন, ব্যাংক তথ্য বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করার আহ্বান জানান।
ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, তার জানা মতে ইতোমধ্যে ৪০ হাজার টাকার বেশি প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। আরও কেউ প্রতারণার শিকার হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শুধু হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা দেখে কেউ যেন টাকা লেনদেন না করেন।”
ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, জিডির ভিত্তিতে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। প্রতারণায় ব্যবহৃত মোবাইল ও বিকাশ নম্বরগুলোর তথ্য সংগ্রহ করে জড়িত চক্রকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি সাইবার অপরাধ দমনে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সহযোগিতাও নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬ । ৪:০৮ অপরাহ্ণ