ফরিদপুরে হাত-পা হারিয়ে হুইলচেয়ারে আদালতে সুজন, তিন মাসেও অধরা মূল আসামি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬ । ৬:২৫ পূর্বাহ্ণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পূর্ব শত্রুতার জেরে নৃশংস হামলায় ডান হাত ও ডান পা হারানো সুজন মুন্সি (৩০) এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পরও তাকে হুইলচেয়ারের ওপর নির্ভর করে চলাফেরা করতে হচ্ছে। ঘটনার প্রায় তিন মাস পার হলেও মামলার প্রধান আসামি এখনও গ্রেপ্তার না হওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। এদিকে মামলার দুই আসামির রিমান্ড শুনানিতে বক্তব্য দিতে সোমবার হুইলচেয়ারে করেই আদালতে হাজির হন সুজন।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এ এ হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সুজন মুন্সি চরভদ্রাসন উপজেলা সদরের ফাজেলখার ডাঙ্গী এলাকার মৃত ধলা মুন্সির ছেলে। আদালতে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মা নিরু বেগম, স্ত্রী বেবী বেগম ও বড় ভাই হায়দার মুন্সি।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় রাজমিস্ত্রীর কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে সুজনের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা চাপাতি ও রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপ দিলে ঘটনাস্থলেই তার ডান হাত ও ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম হন তিনি। তার চিৎকার শুনে বড় ভাই হায়দার মুন্সি এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।

ঘটনার পরদিন সুজনের মা নিরু বেগম চারজনকে আসামি করে চরভদ্রাসন থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন কালাম মণ্ডল (৪০), সাত্তার মণ্ডল (৩৫), শাহ বরাত মণ্ডল (২৪) ও শামীম মণ্ডল (৩০)। তাদের মধ্যে প্রধান আসামি কালাম মণ্ডল এখনও পলাতক।

গত বৃহস্পতিবার সাত্তার মণ্ডল ও শাহ বরাত মণ্ডল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সোমবার তাদের রিমান্ড শুনানিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী হাবিবুর রহমান জানান, ঘটনার সঙ্গে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং হামলার পরিকল্পনা ও অন্যান্য তথ্য উদঘাটনের স্বার্থে আদালত দুই আসামির এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

আদালত প্রাঙ্গণে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুজনের স্ত্রী বেবী বেগম বলেন, “আমার চারটি ছোট সন্তান। যারা আমার স্বামীকে সারাজীবনের জন্য পঙ্গু করে দিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তিনি এখন একা চলাফেরা করতে পারেন না, এমনকি নিজের হাতে খাবারও খেতে পারেন না।”

সুজনের মা নিরু বেগম বলেন, “আমার ছেলে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিল। পথেই তাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে এক হাত ও এক পা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। এতদিনেও প্রধান আসামি ধরা না পড়ায় আমরা চরম উদ্বেগে আছি। আমি দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”

চরভদ্রাসন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, তিনি ১০ দিন আগে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেছেন। এ পর্যন্ত এজাহারভুক্ত দুইজনসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামিসহ পলাতক অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন