শিক্ষক নির্যাতন: শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক নীরব সংকেত

মো. শাহিন মিয়া
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬ । ৯:০৫ পূর্বাহ্ণ

একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যবই পড়ান না, তিনি একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে তোলেন। একজন চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিচারক, প্রশাসক কিংবা বিজ্ঞানী, সবার জীবনের শুরুতেই একজন শিক্ষকের অবদান থাকে।

অথচ সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষকদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। এটি শুধু একজন শিক্ষকের ওপর আঘাত নয়, বরং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর আঘাত।

বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, শিক্ষার্থীদের সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং নৈতিক শিক্ষা দেওয়া একজন শিক্ষকের দায়িত্ব। কিন্তু অনেক সময় এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই শিক্ষককে অপমান, হুমকি, এমনকি শারীরিক হামলার শিকার হতে হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে অভিভাবক, কিছু ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা অন্যদের অসহিষ্ণু আচরণ শিক্ষকদের নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

শিক্ষক যদি ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করেন, তবে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার পরিবেশ কখনোই স্বাভাবিক থাকবে না। এতে শিক্ষার্থীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটবে। একজন ভীত শিক্ষক কখনোই তাঁর সর্বোচ্চ দক্ষতা দিয়ে শিক্ষাদান করতে পারবেন না।

শিক্ষকদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত দায়িত্ব। কোনো অভিযোগ থাকলে তা আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা শিক্ষককে প্রকাশ্যে অপমান করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

একটি উন্নত ও মানবিক সমাজ গড়তে হলে শিক্ষকদের সম্মান দিতে হবে, তাঁদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কারণ শিক্ষক নিরাপদ থাকলে শিক্ষা নিরাপদ থাকবে, আর শিক্ষা নিরাপদ থাকলে দেশ এগিয়ে যাবে।

মনে রাখতে হবে, শিক্ষককে সম্মান করা মানে জ্ঞানকে সম্মান করা, আর জ্ঞানকে সম্মান করা মানেই একটি সমৃদ্ধ জাতির ভিত্তি শক্তিশালী করা।

লেখক: শিক্ষক, ফরিদপুর।

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন