ফরিদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান তার বিরুদ্ধে দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলাকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক’ দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করেই তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক লিখিত বক্তব্যে সিদ্দিকুর রহমান জানান, ফরিদপুর শহরের গোহলক্ষীপুর এলাকার বাসিন্দা মো. মজিবুর রহমানের সঙ্গে একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ বিরোধের প্রেক্ষিতে তিনি ২০২৫ সালের ২৪ অক্টোবর ফরিদপুরের বিজ্ঞ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন।
আদালতের নির্দেশে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে আদালত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিবাদীকে ৩০ জুলাই আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন।
তার অভিযোগ, বিচারাধীন ওই বিরোধ চলমান থাকা অবস্থায় গত ২৮ জুলাই তার বিরুদ্ধে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা নং-৫৬ হিসেবে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে সিদ্দিকুর রহমান দাবি করেন, মামলার এজাহারে যে দিন, সময় ও ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, সে সময় তিনি ফরিদপুরে ছিলেন না। বরং ঢাকায় নিজ কার্যালয়ে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল উপস্থিতির তথ্য এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে সহজেই যাচাই করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, আদালতে বিচারাধীন মামলার নথিতেও উল্লেখ রয়েছে যে, একই জমি-সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে মোট ৬৪ লাখ টাকা গ্রহণ করেও জমির রেজিস্ট্রি সম্পন্ন না করার অভিযোগ রয়েছে। সেই একই বিরোধকে কেন্দ্র করে নতুন করে ফৌজদারি মামলা দায়ের করায় তিনি সামাজিক, পারিবারিক ও ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেন।
সিদ্দিকুর রহমানের ভাষ্য, “কোতোয়ালি থানা কোনো তদন্ত বা সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণের আগেই আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মনগড়া ও ভিত্তিহীন মামলা নেওয়া হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।”
তিনি বিচারাধীন বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গণমাধ্যমের কাছে তার বক্তব্য ও সংরক্ষিত তথ্য-প্রমাণ জনসম্মুখে তুলে ধরার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, অভিযোগকারী মো. মজিবুর রহমান তার এজাহারে উল্লেখ করেছেন, গত ১৫ জুলাই বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সিদ্দিকুর রহমান তার বাসায় গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং ১ কোটি ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি অনুযায়ী টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “পূর্বে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে মামলা থাকলেও অভিযোগকারী নতুন করে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬ । ১:১১ অপরাহ্ণ