ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ১১ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে প্রতিবেশী এক ব্যক্তিকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর পুলিশ পাহারায় তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত হাফিজুর রহমান মোল্লা (৫৫) ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা।
আদালত সূত্র ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৫ মে দুপুরে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১১ বছর বয়সী শিশুটি নিজ বাড়িতে একা ছিল। এ সুযোগে প্রতিবেশী হাফিজুর রহমান বাড়িতে প্রবেশ করে শিশুটির শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করে যৌন নিপীড়ন চালায়। এ সময় শিশুটি চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পরে শিশুটির মা বাড়িতে ফিরে এলে মেয়েটি পুরো ঘটনার বর্ণনা দেয়। পরদিন ১৬ মে শিশুটির মা বাদী হয়ে বোয়ালমারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে হাফিজুর রহমানকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত করেন বোয়ালমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কবির আহমেদ। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৭ জুন তিনি হাফিজুর রহমানকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার চলাকালে সাক্ষীদের সাক্ষ্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য, তদন্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
রায়ের বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, “আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে ন্যায়সঙ্গত রায় দিয়েছেন। আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট।”

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬ । ৫:৪৬ অপরাহ্ণ