দীর্ঘদিনের ফুটপাত দখল ও অবৈধ স্থাপনা নিয়ে ভোগান্তির খবর প্রকাশের পর এবার ফরিদপুর শহরে ফুটপাত দখলমুক্ত ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে পৌরসভা।
রবিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে পৌর সুপার মার্কেটের সামনে থেকে এ অভিযান শুরু হয়। এতে ফুটপাত ও সড়কের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হয়।
অভিযানের ফলে বেশ কিছু এলাকায় পথচারীদের চলাচলের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। দীর্ঘদিন পর ফুটপাত ফিরে পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। তবে উচ্ছেদের পর আবারও যেন ফুটপাত দখল না হয়, সে বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এর আগে গত ২৫ জুলাই ফরিদপুর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ফুটপাত দখল করে দোকানপাট, ভাসমান ব্যবসা ও অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় পথচারীদের দুর্ভোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, জনতা ব্যাংক মোড়, হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজারসংলগ্ন সড়ক, থানা মোড়, গোয়ালচামট, রাজবাড়ী রাস্তার মোড় ও টেপাখোলা সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখলের কারণে শিশু, শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্কদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
ওই প্রতিবেদনে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় ব্যস্ত সড়ক দিয়ে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছেন পথচারীরা। এতে একদিকে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়ে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। ব্যবসায়ীরা অবশ্য জীবিকার তাগিদে ফুটপাতে বসার কথা জানিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, রোববারের অভিযানে নেতৃত্ব দেন ফরিদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জাকী। অভিযানে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলুর রহমান, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা গোবিন্দ চন্দ্র মন্ডল, সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা সৈয়দ মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান, উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. শরিফুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) লাইজিং হোসেন রাজুসহ পৌরসভার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
অভিযানকালে ফুটপাত ও সড়কের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ফুটপাত ও সড়কের জায়গা দখল করে নতুন করে কোনো স্থাপনা নির্মাণ না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়।
ফরিদপুর পৌরসভার কর্মকর্তারা জানান, শহরের ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। উচ্ছেদের পর কেউ পুনরায় ফুটপাত দখল করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফরিদপুর সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য সাংবাদিক হাসানউজ্জামান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, শুধু একদিনের অভিযানেই সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিত মনিটরিং ও উচ্ছেদ কার্যক্রম চালু রাখা প্রয়োজন। এটা যেন লোকদেখানো অভিযান না হয়। পাশাপাশি জীবিকার প্রয়োজনে ফুটপাতে বসা ভাসমান ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প স্থান নির্ধারণ করা হলে একদিকে যেমন তাদের জীবিকা রক্ষা হবে, অন্যদিকে পথচারীরাও ফিরে পাবেন নিরাপদে হাঁটার অধিকার।
ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে পৌরসভার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন নগরবাসী। তাদের মতে, উচ্ছেদ অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলেই ফরিদপুর শহরের ফুটপাতগুলো স্থায়ীভাবে পথচারীবান্ধব হয়ে উঠবে।
এর আগে গত ২৬ জুলাই ‘ফরিদপুরে ফুটপাত দখলে নাকাল পথচারী, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়কে হাঁটছেন নগরবাসী‘ এই শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ফরিদপুর প্রতিদিন। এর পরই অভিযানে নামলো ফরিদপুর পৌরসভা।

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬ । ৭:৩৯ অপরাহ্ণ