ট্রাকচালককে মারধরের প্রতিবাদে ফরিদপুরে ময়লা অপসারণ বন্ধ, ভোগান্তিতে মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬ । ৫:৪০ অপরাহ্ণ

ফরিদপুর পৌরসভার ফুটপাত দখলমুক্ত ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে ট্রাকচালককে মারধরের প্রতিবাদে শহরের তিতুমীর বাজার ও চকবাজার এলাকার ময়লা অপসারণ বন্ধ করে দিয়েছেন পৌরসভার ময়লাবাহী ট্রাকচালক ও শ্রমিকরা। হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত ওই দুই বাজারের ময়লা পরিবহন না করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

এদিকে বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল থেকে ময়লা অপসারণ বন্ধ থাকায় চকবাজার ও তিতুমীর বাজারসংলগ্ন ফলপট্টি, থানার মোড়, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সামনের মোড়, ময়রাপট্টি ও আলীমুজ্জামান সেতুসংলগ্ন এলাকায় ময়লার স্তূপ জমতে শুরু করেছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় ব্যবসায়ী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, এসব গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও সড়কসংলগ্ন এলাকায় প্রতিদিন ভোরে তিন টন ধারণক্ষমতার একটি ময়লাবাহী ট্রাক চারজন শ্রমিক নিয়ে দুই দফায় রাতের জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ করে। কিন্তু ট্রাকচালককে মারধরের ঘটনার পর শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে বুধবার সকাল থেকে ওই কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

পৌরসভার কনজারভেন্সি বিভাগের পরিদর্শক বিভাষ দত্ত বলেন, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে চকবাজার এলাকায় পৌরসভার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেওয়া ট্রাকচালক সবুজ প্রামাণিক (২৮) কয়েকজন ব্যবসায়ীর হামলার শিকার হন। এ ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতে পৌরসভায় শ্রমিকদের নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত তিতুমীর বাজার ও চকবাজার এলাকার ময়লা পরিবহন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, বুধবার সকাল থেকে পৌর কর্তৃপক্ষ ট্রাকচালক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে ময়লা অপসারণের অনুরোধ করেছে। কিন্তু তারা হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত কাজে ফিরতে রাজি হননি।

বিভাষ দত্ত আরও বলেন, হামলার ঘটনায় আহত ট্রাকচালক সবুজ প্রামাণিক বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতেই ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

এদিকে ময়লা অপসারণ বন্ধ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চকবাজারের ব্যবসায়ীরা। চকবাজার বণিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ কে এম কিবরিয়া বলেন, ‘সেবা বন্ধ করে দেওয়া মানে জনগণকে জিম্মি করা। ট্রাকচালককে মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের শনাক্ত করে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিক, এতে আমাদের আপত্তি নেই। তবে একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান থেকে নাগরিক সেবা বন্ধ করে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বাজার এলাকায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কাঁচাবাজারের বর্জ্য, ফল-সবজির উচ্ছিষ্ট ও অন্যান্য আবর্জনা জমে থাকে। নিয়মিত অপসারণ না হলে অল্প সময়ের মধ্যেই ময়লার স্তূপ বড় হয়ে যায়। এতে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও পথচারীদের চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় ময়লা পড়ে থাকলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত রোববার থেকে ফরিদপুর পৌরসভা শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও জনাকীর্ণ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান শুরু করেছে। মঙ্গলবার ছিল এ অভিযানের তৃতীয় দিন।

মঙ্গলবার বিকেলে চকবাজার এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গেলে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কয়েকজন ব্যবসায়ীর বাধার মুখে পড়েন। এ সময় পৌরসভার ময়লাবাহী ট্রাকচালক সবুজ প্রামাণিককে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

পরে আহত সবুজ প্রামাণিক ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। চিকিৎসা শেষে রাতে তিনি নিজেই বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

এদিকে পৌরসভার ময়লা অপসারণ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় দ্রুত পরিস্থিতির সমাধান চেয়েছেন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে ট্রাকচালককে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি নাগরিক সেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন