সকালে নাকি দুপুরে, কখন পেট ভরে খাওয়া ভালো? জানালেন পুষ্টিবিদ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬ । ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ

গ্রীষ্মের তাপদাহে সারা বাংলা যখন ঘর্মাক্ত, তখন সাধারণ মানুষের মনে খাদ্যাভ্যাস নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। এই গরমে সুস্থ থাকতে দিনের কোন সময়টিতে ভারী খাবার খাওয়া উচিত, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে।

সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ শ্রাবণী মুখোপাধ্যায় এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করেছেন।

তার পরামর্শ অনুযায়ী, সুস্থ থাকার জন্য আমাদের খাদ্যাভ্যাসে কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনা জরুরি। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. পেট ভরে খাওয়া কি ঠিক?

পুষ্টিবিদ শ্রাবণী মুখোপাধ্যায়ের মতে, এই তীব্র গরমে একবারে অনেকটা খাবার বা পেট ভরে খাওয়া একদমই উচিত না। এতে শরীরে হাঁসফাঁসানি বাড়তে পারে এবং হজমের সমস্যা যেমন—গ্যাস বা অ্যাসিডিটির ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই গরমে সুস্থ থাকতে একবারে অনেকটা না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

২. ভারী খাবারের সঠিক সময়: সকাল না দুপুর?

ভারী খাবারের সঠিক সময় সম্পর্কে পুষ্টিবিদ জানিয়েছেন যে, কেবল গরমকাল নয়, বরং সারা বছরই সকালের ব্রেকফাস্টি ভারী হওয়া উচিত। এরপর দুপুরের খাবার বা লাঞ্চ হবে সকালের তুলনায় কিছুটা হালকা। আর রাতের খাবার হতে হবে একেবারেই নামমাত্র বা খুব হালকা। এই নিয়ম মেনে চললে শরীর সুস্থ থাকে এবং দেহে প্রোটিন, ভিটামিন ও শক্তির ঘাটতি মেটে।

৩. ব্রেকফাস্ট বাদ দেওয়ার কুফল

অনেকেই ওজন কমানোর নেশায় সকালের নাস্তা বা ব্রেকফাস্ট এড়িয়ে যান, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর [৭]। পুষ্টিবিদের মতে, ব্রেকফাস্ট হলো দিনের প্রথম মিল যা শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সচল রাখতে শক্তি জোগায় [৭]। ব্রেকফাস্ট না করলে শরীরের মেটাবলিজম রেট কমে যায়, ফলে মেদ কমার বদলে উল্টে বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ওজন কমাতে চাইলেও নিয়মিত ব্রেকফাস্ট করা বাধ্যতামূলক।

৪. পাতে থাকুক সুষম আহার

সুস্থ থাকতে দিনের তিনটি বড় মিলেই (ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, ডিনার) সঠিক পুষ্টির ভারসাম্য থাকা চাই।

প্রোটিন: ডিম, মাছ, মাংস বা সয়াবিন।

কার্বোহাইড্রেট: ভাত, রুটি, ডালিয়া বা ওটস।

ফ্যাট: রান্নায় ব্যবহৃত তেল।

ভিটামিন ও খনিজ: শাক-সবজি এবং টাটকা ফল।

৫. পর্যাপ্ত জলপান

গরমে ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতা এড়াতে দিনে অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস জল পান করা জরুরি। যারা রোদে বেরিয়ে কাজ করেন, তাদের জলপানের পরিমাণ আরও কিছুটা বাড়ানো উচিত। তবে কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে জলপানের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

তথ্যসূত্র: এই সময় অনলাইন

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন