ফরিদপুরে রাসেল’স ভাইপার হতে রক্ষায় গামবুট ও স্প্রে মেশিন পেলেন চরাঞ্চলের কৃষকরা

শিশির খাঁন
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬ । ৫:৩৫ পূর্বাহ্ণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলে রাসেল’স ভাইপার সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের মাঝে ৩’শ গামবুট ও ৩’শ স্প্রে মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে চরভদ্রাসন উপজেলা চর ঝাউকান্দা ইউনিয়নের কৃষকদের মাঝে গামবুট ও স্প্রে মেশিন বিতরণ করেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম।

জানা যায়, চরভদ্রাসনে পদ্মা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলে ২০১৬ সালে দেখা মিলে বিষধর রাসেল’স ভাইপার সাপ। গত বছর এই ইউনিয়নের চরাঞ্চলসহ উপজেলা সদরের বিভিন্ন গ্রামে রাসেল’স ভাইপার সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের মাঝে ভীতির সঞ্চার হয়। গত বছর অত্র উপজেলায় মানুষের হাতে মারা পড়েছে রাসেলস ভাইপার সহ বিভিন্ন প্রজাতির সাপ। এছাড়া গত কয়েক বছরে এই উপজেলায় সাপের কামড়ে বেশ কয়েকজন মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

গামবুট নিতে আসা চাষি ইয়াসিন মিয়া
বলেন, এতোদিন সাপের ভয়ে ক্ষেতে যেতে পারিনি। গামবুট পেয়েছি এখন নিশ্চিন্তে ক্ষেতে যেতে পারবো, ক্ষেতের ফসল তুলে ঘরে আনতে পারবো। অনেক ফসল ইতোমধ্যে ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া শ্রমিকরাও ভয়ে ক্ষেতে নামছিল না। এখন সবাই ক্ষেতের ফসল ঘরে আনতে পারবো।

ইমারুন বেগম বলেন, নদীর পাশেই আমাদের বাড়ি। সাপের ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারি না। জেলা প্রশাসক স্যার আমাদেরকে গামবুট দিয়েছেন, এখন গামবুট পড়ে ক্ষেতে যেতে পারবো। চলাচলেও কোনও সমস্যা হবে না। নিশ্চিন্তে ফসল ঘরে তুলে আনতে পারবো।

তিনি আরও বলেন, স্বামীসহ সন্তানরা মিলে আমরা সবাই ক্ষেতে কাজ করি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেক সময় ক্ষেতে যেতে হয়েছে। সাপের ভয়ে তিল ক্ষেত থেকে তুলতেই পারিনি এখনও। তিল ক্ষেতের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গামবুট পেয়েছি, এখন ক্ষেতে যেতে সমস্যা হবে না।

আরেক চাষি নাজমুল হাসান বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাদাম কিছুটা তুলেছি। গামবুট পেয়েছি এখন ক্ষেতে গিয়ে ফসল তুলতে পারবো। কৃষি শ্রমিকরাও ক্ষেতে যেতে চায় না। একারণে নিজেদেরই ঝুঁকি নিয়ে ফসল তুলতে হচ্ছে। গামবুট পেয়ে আমরা অনেক খুশি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, রাসেলস ভাইপারের আতঙ্কে কৃষকেরা খেতের ফসল তুলতে পারছিলেন না। তাঁরা আতঙ্কিত ছিলেন। স্থানীয়দের থেকে বিষয়টি জানার পর কৃষকদের কথা চিন্তা করে তাঁদের সাপের কামড় থেকে বাঁচাতে গামবুট ও স্প্রে মেশিন দেওয়া হয়েছে। চরাঞ্চলের ৩০০ জনের মধ্যে গামবুট ও ৩০০ জনকে স্প্রে মেশিন দেওয়া হলো। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ইউনিয়নের চাষিদের মধ্যে গামবুট বিতরণ করা হবে। কৃষকদের সচেতনতা সৃষ্টিতে মাইকিংসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম বলেন, রাসেলস ভাইপারের ভয়ে কৃষকরা ক্ষেতে ফসল তুলতে যেতে পারছিল না। কৃষকদের কথা চিন্তা করে সাপের কামড় থেকে বাঁচাতে গামবুট দেয়া হয়েছে। চরাঞ্চলের চাষিদের মাঝে আজ গামবুট দেয়া হলো। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ইউনিয়নের চাষিদের মাঝে গামবুট বিতরণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জুলহাস হোসেন সৌরভের সভাপতিত্বে এসময় চর ঝাউকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান মৃধা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সফর আলী, কৃষি কর্মকর্তা ইমরান বিন ইসলাম, গাজীরটেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলী, চর হরিরামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর কবিরসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন