‘নদীর পাড়ে শেষ অপেক্ষা’

শরীফ খান
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬ । ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ

বৃদ্ধ লোকটি প্রতিদিন বিকেলে নদীর পাড়ে এসে বসতেন। হাতে থাকত একটি পুরোনো চিঠি। নদীর স্রোত বয়ে যেত, নৌকা আসত-যেত, পাখিরা ঘরে ফিরত—শুধু তিনি ফিরতেন না।

একদিন গ্রামের এক চা-ওয়ালা কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করল,

“চাচা, প্রতিদিন এখানে একা বসে থাকেন কেন?”

বৃদ্ধ লোকটি নদীর দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললেন,
“ছেলের অপেক্ষায়।”

“সে কি দূরে থাকে?”

লোকটি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,

“অনেক দূরে। একদিন চিঠি লিখেছিল—‘বাবা, একদিন তোমার কাছে ফিরব।’ সেই দিনটার অপেক্ষায় আছি।”
চা-ওয়ালা আর কিছু বলল না।

দিন যায়, মাস যায়, বছর পেরিয়ে যায়। নদীর পানি বদলায়, পাড়ের গাছ বড় হয়, গ্রামের কত মানুষ আসে-যায়—শুধু বৃদ্ধ লোকটির অপেক্ষা বদলায় না।

এক শীতের সকালে নদীর পাড়ের বেঞ্চটি খালি পড়ে ছিল।

চা-ওয়ালা বৃদ্ধের ঘরে গিয়ে দেখল, টেবিলের ওপর সেই পুরোনো চিঠি। তার পাশে আরেকটি নতুন চিঠি—

“বাবা, ফিরতে আমার অনেক দেরি হয়ে গেছে। তুমি যদি আর অপেক্ষা করো না, আমাকে ক্ষমা কোরো।”

চা-ওয়ালা চিঠিটা হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে রইল।

বিকেলে সে নদীর পাড়ে গিয়ে দেখল, সূর্যটা ধীরে ধীরে নদীর বুকে ডুবে যাচ্ছে। বাতাসে কাশফুল দুলছে, দূরে একটি নৌকা ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে।

বেঞ্চটি তখনও সেখানে।
শুধু মানুষটি নেই।

কখনো কখনো মানুষ চলে যায়, কিন্তু তার অপেক্ষা থেকে যায়—নদীর স্রোতের মতো, নীরবে, অনন্তকাল।

লেখক: ফরিদপুর।

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন