ফরিদপুরে বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর-ডোবরা-দাদপুর সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। পুরো সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় খানাখন্দ। কোথাও পিচ উঠে গেছে, আবার কোথাও তৈরি হয়েছে গভীর গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে সড়কটি এখন যেন স্থানীয়দের কাছে এক ‘মৃত্যুকূপে’ রূপ নিয়েছে।
প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজার হাজার মানুষ ও শত শত যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী এবং ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার একাধিক স্থানে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের খাদে ও পুকুরে পড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহিদ শেখ জানান, রাস্তাটি এতটাই নষ্ট হয়ে গেছে যে গাড়ি চালানো তো দূরের কথা, হেঁটে চলাচলেও কষ্ট হয়। জামাল মোল্যা নামে অপর এক বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, “রাস্তার অবস্থা দেখে বোঝার উপায় নেই এটা পাকা নাকি কাঁচা। বৃষ্টির পর পা পিছলে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে।”
পণ্যবাহী যানবাহনের চালকরাও রয়েছেন চরম আতঙ্কে। নছিমন চালক কায়েম বিশ্বাস বলেন, “প্রতিবার গাড়ি নিয়ে বের হলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। গর্তে পড়ে গাড়ির যন্ত্রাংশ যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।” একাধিক পথচারী ও ভ্যানচালক জানান, সম্প্রতি পিকআপ ও ভ্যানের ধাক্কায় পুকুরে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, বিশেষ করে খালেক মাতুব্বরের বাড়ি, সেলিম শিকদার, তুজাম শিকদার, কালাম, সিরাজ, হাবিবুর রহমান, নজরুল ও রেজাউলের বাড়ির সামনের অংশগুলোর অবস্থা সবচেয়ে বেশি নাজুক।
যোগাযোগ করা হলে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান জানান, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো মেরামতের জন্য এলজিইডিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এস্টিমেট তৈরি করে বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বোয়ালমারী উপজেলা প্রকৌশলী পূর্ণেন্দু সাহা বলেন, “সাড়ে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি ফরিদপুর-রাজবাড়ী প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলেই কাজ শুরু হবে।”
তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় না থেকে সাময়িকভাবে জরুরি ভিত্তিতে খানাখন্দগুলো ভরাট করে নিরাপদ চলাচলের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৪:৫৪ অপরাহ্ণ