বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ৮৪ শতাংশ জমি দান করার পরও দাতা সদস্যের তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং দীর্ঘদিন এক কর্মচারীর বেতন বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার নওয়াপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
এসব অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্যরা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মকবুল হোসেন খানের মেয়ে মনিরা বেগম ও ছেলে হারুন খান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ১৯৯৩ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সময় স্থানীয় মকবুল হোসেন খান ৮৪ শতাংশ জমি দান করেন। তবে পরবর্তীতে জালিয়াতি ও নানা অনিয়মের মাধ্যমে দাতা সদস্যের তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়। এছাড়া বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ তালুকদারের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের জমি বিক্রি ও ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ১৯৯৮ সালে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সন্তান হারুন খান অফিস সহকারী পদে যোগ দেন। তবে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাওলানা দবিরউদ্দীন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অন্যায়ভাবে তাঁর বেতন-ভাতা বন্ধ রাখা হয়েছে।
তবে বেতন বন্ধের বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে বেতন চালুর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এখনো জমা দেওয়া হয়নি। এ কারণে তাঁর নাম ইএফটিতে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে দ্রুত ইএফটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করে বেতন চালুর ব্যবস্থা করা হবে।
এদিকে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা। অবসরপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, “আমি প্রায় ৯ বছর আগে অবসরে গেছি। সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন উদ্দেশ্যে আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে।”
একই সুর মিলিয়ে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাওলানা দবিরউদ্দীনও দাবি করেন, সংবাদ সম্মেলনে তাঁর বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ অসত্য তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব অভিযোগের দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, বিদ্যালয়ের জমি ও সার্বিক আর্থিক কার্যক্রম পুনর্বিবেচনা এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে স্থানীয় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ । ৬:৩৬ অপরাহ্ণ