ফরিদপুর জেলাজুড়ে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেছে জনপদ ও বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। টানা কয়েক দিন ধরে ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকছে পুরো জেলা। এতে করে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) ভোর থেকেই ফরিদপুর সদরসহ ভাঙ্গা, বোয়ালমারী, সালথা, মধুখালী, নগরকান্দা ও সদরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘন কুয়াশা লক্ষ্য করা গেছে। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনেক স্থানে সূর্যের দেখা মেলেনি। কুয়াশার কারণে সড়ক-মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ে, কিছু এলাকায় যানজটও সৃষ্টি হয়।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ফরিদপুরে বোরো ধানের বীজতলা, গম, সরিষা, আলু, পেঁয়াজ, রসুনসহ শীতকালীন সবজি চাষের মৌসুম চলছে। ঘন কুয়াশা ও ঠাণ্ডাজনিত আর্দ্রতা ফসলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে আলু ও সবজি ক্ষেতে ছত্রাকজনিত রোগের আশঙ্কা বেড়ে যায়। দীর্ঘ সময় কুয়াশা থাকলে বীজতলায় চারা পচে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষক ছুরাপ কাজী বলেন, “কয়েক দিন ধরে মাঠে ঘন কুয়াশা পড়ছে। আলুর ক্ষেতে পানি জমে থাকার মতো অবস্থা হচ্ছে। রোগবালাই হলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।” একই উপজেলার আরেক কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, শীত বাড়ায় শ্রমিক সংকটও দেখা দিয়েছে, এতে চাষাবাদে ব্যয় বাড়ছে।
ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, “কুয়াশার কারণে ফসলে ছত্রাক ও পোকার আক্রমণের ঝুঁকি থাকে। কৃষকদের নিয়মিত জমি পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে পরামর্শ অনুযায়ী ছত্রাকনাশক ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।”
এদিকে ফরিদপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন ফরিদপুরসহ দেশের মধ্যাঞ্চলে কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে। রাতের তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।ফলে কৃষক ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাওয়া ফরিদপুরে তাই একদিকে যেমন শীতের অনুভূতি বেড়েছে, অন্যদিকে ফসল রক্ষা নিয়ে বাড়ছে কৃষকদের উদ্বেগ।

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ । ১২:৫৮ পিএম