তারেক রহমান হুট করে কোনো পরিকল্পনার কথা বলেননি।
১৭ বছরের নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফেরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সংবর্ধনা দিয়েছে তার দল। সেখানে তিনি দেশবাসীদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দেন।
বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মতে, তারেক রহমানের এই ‘প্ল্যান’ কোনো কল্পনাপ্রসূত বিষয় নয়। এটি দীর্ঘদিনের গবেষণা এবং দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মনে করেন, এই পরিকল্পনা কেবল বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, বরং ক্ষমতায় যাওয়ার পর দেশকে কীভাবে একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তার একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন। তারা মনে করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সুসংগঠিত এবং লক্ষ্য অভিমুখী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ উক্তিটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী রাজনৈতিক কৌশল। এটি একই সাথে রহস্য এবং আশার জন্ম দেয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, যদি তারেক রহমান তার এই পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করতে পারেন এবং সুশাসনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দিতে পারেন, তবে তা দেশের রাজনীতিতে একটি বড় মাইলফলক হবে। তবে তারা এটিও সতর্ক করেছেন যে, পরিকল্পনার ঘোষণা যতটা সহজ, তার বাস্তবায়ন ততটাই চ্যালেঞ্জিং।
তারেক রহমানের পরিকল্পনার বিষয়ে কেবল দেশের অভ্যন্তরে নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক কৌতূহল দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলো এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগীরা দেখতে চায় তারেক রহমানের এই পরিকল্পনায় গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার, মানবাধিকার রক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে কী ধরনের অঙ্গীকার রয়েছে। বিদেশি কূটনীতিকরা বিএনপির এই পরিবর্তনশীল এবং সংস্কারমুখী অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বলে বিভিন্ন সূত্র ইঙ্গিত দিচ্ছে।
একজন সাধারণ নাগরিক যখন শোনেন যে নেতার কাছে একটি পরিকল্পনা আছে, তখন তিনি সেখানে নিজের উন্নত ভবিষ্যতের ছায়া দেখতে পান। সাধারণ মানুষ এখন সংঘাতের রাজনীতির চেয়ে উন্নয়নের এবং স্থিতিশীলতার রাজনীতি বেশি পছন্দ করে। তারেক রহমানের ‘সবাই মিলে দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি’ সাধারণ মানুষকে এই বার্তা দিচ্ছে যে, আগামীর বাংলাদেশ হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, যেখানে কোনো বিভেদ থাকবে না।
তারেক রহমানের এই ‘প্ল্যান’ সফল হবে কি না, তা নির্ভর করবে এর সফল প্রয়োগের ওপর। তবে বর্তমানে এটি যে দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে এবং জনমনে আশার সঞ্চার করেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ৩১ দফা, ফ্যামেলি কার্ড এবং জাতীয় ঐক্যের ডাক—এই তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়েই সম্ভবত তৈরি হচ্ছে তারেক রহমানের সেই কাঙ্ক্ষিত ‘প্ল্যান’।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রফেসর দিলারা চৌধুরী বলেছেন, দেশের মানুষ নতুন কিছু দেখতে চায়। তারা চায় পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের জন্য দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। যদি তারেক রহমান তার এই পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করতে পারেন এবং সুশাসনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দিতে পারেন, তবে তা দেশের রাজনীতিতে একটি বড় মাইলফলক হবে।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহবায়ক আমিনুল হক বলেছেন, তারেক রহমানের এই পরিকল্পনাটি মূলত দেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা। এর আওতায় দেশের প্রতিটি পরিবারের নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ প্রবর্তন করা হবে। এছাড়া খেলাধুলাকে একটি পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ করে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে ৮০ শতাংশই হবেন নারী। পরিবেশ রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো এবং ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে। এছাড়া ধর্মীয় ও সামাজিক কাঠামোর অংশ হিসেবে ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি আরো বলেন, এই পরিকল্পনার একটি বড় দিক হলো মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি বন্ধ করা। পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করার প্রতিশ্রুতিও এই পরিকল্পনায় রয়েছে।
আমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেন, এগুলো কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এগুলো সুপরিকল্পিত উদ্যোগ যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ তার ফেইসবুক পেজে লিখেছেন, একবিংশ শতাব্দীর একজন দূরদর্শী নেতা, যিনি জনগণের জন্য স্পষ্ট পরিকল্পনা এবং জাতির প্রতি গভীর অঙ্গীকার প্রদর্শন করেছেন।

তানভীর আহমেদ, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ । ৪:০২ পিএম