প্রাচীন স্থাপত্যের সাক্ষী মধুখালীর মথুরাপুর দেউল

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ । ৬:২৯ এএম

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মথুরাপুর গ্রামে অবস্থিত মথুরাপুর দেউল বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। এই দেউলটি আনুমানিক ষোড়শ শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছিল বলে ইতিহাসবিদরা মনে করেন। এটি বাঙালি স্থাপত্য ও টেরাকোটা শিল্পকলার এক অনন্য নিদর্শন।

দেউলটি বারো কোণবিশিষ্ট এবং এর বাইরের দেয়ালে জ্যামিতিক নকশা, দেবদেবীর ভাস্কর্য ও পৌরাণিক গল্পচিত্রে সজ্জিত টেরাকোটা অলংকার রয়েছে। এই অলংকার ও নকশা স্থাপত্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতির ইতিহাস ও জীবনধারার সাক্ষ্য বহন করে।

স্থানীয়রা মথুরাপুর দেউলকে শুধু ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসাবেই দেখে না; এটি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও বিবেচিত। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী এটি সরকারি সুরক্ষিত প্রত্নসম্পদ হিসেবে তালিকাভুক্ত।

কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দেউলটি ক্ষয়িষ্ণু অবস্থায় রয়েছে। দেয়ালের ফাটল, টেরাকোটার ক্ষয় এবং ছাদের ভঙ্গুর অবস্থা এই স্থাপনাটিকে ভবিষ্যতে বিপন্ন করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, দ্রুত সংরক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এটি হারিয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই কিছু সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছে। ভবিষ্যতে আরও সুসংগঠিত ও স্থায়ী রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই দেউলকে আগামী প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করার চেষ্টা করা হবে।

ইতিহাসচর্চায় অনুরাগীরা মনে করেন, মথুরাপুর দেউল শুধু অতীতের ইতিহাস নয়, বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও শিল্পসংস্কৃতির এক জীবন্ত স্মারক।

ফরিদপুরের এই প্রাচীন নিদর্শনটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে পর্যটক আকর্ষণ বাড়াচ্ছে এবং স্থানীয় পর্যটন ও ইতিহাসচর্চার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা এখন সময়ের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন