জ’ঙ্গি ও ‘হাওয়া ভবন’ প্লট নির্মাতাদের দুঃখবোধ

হারুন আনসারী
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ । ৭:৪৮ এএম

বাংলাদেশে তথাকথিত ‘জ’ঙ্গি নাটক’ মঞ্চায়নের গতি তীব্র হয় চারদলীয় জোট সরকারের সময়। সেই সময় সিরিজ বোমা হামলা, গ্রেনেড বিস্ফোরণসহ একের পর এক ঘটনার পরিণতিতে আসে ওয়ান-ইলেভেনের সরকার। একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতি তৈরি করতে তখন মিডিয়ার একটি অংশ দেশের মানুষকে ‘জ’ঙ্গি হামলা’, ‘হাওয়া ভবন’ ও ‘খাম্বা প্লট’-এর নানা গল্প শোনিয়ে বিভ্রান্ত করেছিল।

এরই ভয়াবহ পরিণতি আমরা দেখি মইন–ফখরুদ্দীন আমলে—তারেক রহমানের ওপর নির্মম নির্যাতনের মধ্য দিয়ে। প্রিজন ভ্যানে উঠতে গিয়ে কাঁপতে থাকা তারেক রহমান, হাসপাতালের বেডে মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় তাঁর পাশে স্নেহময়ী মা খালেদা জিয়া—এই দৃশ্যগুলো আজও হৃদয় ভারী করে তোলে।

এই সবকিছুর নেপথ্যে ছিল একটি সুপরিকল্পিত ব্লু-প্রিন্ট। জোট সরকারের নেতৃত্বদানকারী বিএনপির ভাবমূর্তি ধ্বংস করতে মিডিয়া ট্রায়ালে শুধু তারেক রহমান, বাবর, হারিস চৌধুরী বা মামুনকেই নয়—এমনকি খালেদা জিয়ার সম্মতিতেই বসুন্ধরা থেকে একশ’ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার মতো ভয়ংকর অভিযোগও প্রচার করা হয়েছিল। বিস্ময়ের বিষয় হলো, যাঁকে একদিন দুর্নীতির প্রতীক বানানো হয়েছিল, আজ তাঁরাই আবার তাঁকে ‘দুর্নীতিমুক্ত প্রধানমন্ত্রী’ বলে আখ্যায়িত করেন।

এই প্লটের শিকার হয়েছে অসংখ্য মানুষ—যারা জুলুম, নির্যাতন ও অবিচারের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছেন আজও।
ফ্যাসিবাদী সময়ে সংঘটিত বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের গণহত্যা, ভোটাধিকার হরণ, গুম ও খুনের মতো গুরুতর অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সে সময় মিডিয়ার ভূমিকা জাতির সামনে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি। যেমন করে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা ইতিহাসে চিহ্নিত, তেমনি এই ঘটনাগুলোতে সংশ্লিষ্ট মিডিয়ার ভূমিকাও দায়মুক্ত থাকতে পারে না। প্রকৃতপক্ষে, তাদেরও জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক সত্য হলো—এই দেশে নিত্যনতুন সংকট ও হাহাকারের ভিড়ে এমন গুরুতর বিষয়গুলো বরাবরের মতোই চাপা পড়ে যায়।

 

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক, ফরিদপুর

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন