এই শীতে কি আগের চেয়ে বেশি অ্যালার্জির সমস্যা হচ্ছে? শীতকালীন অ্যালার্জির লক্ষণ আসলে সাধারণ মৌসুমি অ্যালার্জির মতোই। তবে শীতের ঠান্ডা ও রুক্ষ আবহাওয়ার কারণে আমরা বেশি সময় ঘরের ভেতরে থাকি। এতে ঘরের ভেতরের অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী জিনিসের (indoor allergens) সংস্পর্শে বেশি আসতে হয়।
শীতে অ্যালার্জি বাড়ানোর কিছু সাধারণ কারণ
– বাতাসে ভাসমান ধুলার কণা
– ডাস্ট মাইট (অতি ছোট পোকা)
– পোষা প্রাণীর লোম ও ত্বকের খোসা
– ছত্রাক বা ফাঙ্গাস (mold)
– তেলাপোকার মল
অ্যালার্জির উপসর্গ কমানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো আগেই সতর্কতা নেওয়া। তবে লক্ষণ অনেক বেড়ে গেলেও উপশম পাওয়ার উপায় আছে।
চলুন আজ জেনে নিই ঘরের কোন কোন জিনিস অ্যালার্জির কারণ হতে পারে, কী কী লক্ষণ দেখা দেয়, কীভাবে চিকিৎসা ও প্রতিরোধ করা যায়, এবং শীতকালীন অ্যালার্জি আর সর্দি-কাশির পার্থক্য কী।
ঘরের ভেতরের অ্যালার্জির কারণ
শীতকালে আবহাওয়া স্যাঁতসেঁতে থাকে এবং আমরা বেশি সময় ঘরের ভেতর থাকি। এতে কিছু নির্দিষ্ট অ্যালার্জির কারণ বেশি সক্রিয় হয়।
অ্যালার্জির লক্ষণ
শীতকালীন অ্যালার্জির সাধারণ লক্ষণগুলো হলো :
– হাঁচি
– নাক বন্ধ বা নাক দিয়ে পানি পড়া
– চোখ চুলকানো
– গলা ও কান চুলকানো
– নাক বন্ধ থাকায় শ্বাস নিতে কষ্ট
– শুকনো কাশি (কখনো কফসহ)
– ত্বকে র্যাশ
– শরীর খারাপ লাগা
– হালকা জ্বর
তীব্র অ্যালার্জি হলে (বিশেষ করে হাঁপানি থাকলে) দেখা দিতে পারে :
– বুক চেপে ধরা
– শ্বাস নেওয়ার সময় শোঁ শোঁ শব্দ
– দ্রুত শ্বাস নেওয়া
– খুব ক্লান্ত লাগা
– অস্থির বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত লাগা
অ্যালার্জি আর সর্দির পার্থক্য
সর্দি হয় ভাইরাসের কারণে, যা অন্য মানুষের কাছ থেকে ছড়ায়। অ্যালার্জি হয় শরীরের প্রতিক্রিয়ার কারণে, যখন কোনো অ্যালার্জির উপাদানের সংস্পর্শে আসা হয়।
সর্দি সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে সেরে যায়। অ্যালার্জি যতদিন অ্যালার্জির কারণের সংস্পর্শে থাকবেন, ততদিন চলতে পারে।
সংক্ষেপে পার্থক্য
সর্দি : কয়েক দিন থেকে ২ সপ্তাহ থাকে
অ্যালার্জি : কয়েক দিন থেকে মাসের পর মাসও থাকতে পারে
সর্দিতে : শরীর ব্যথা ও জ্বর হয়
অ্যালার্জিতে : সাধারণত জ্বর ও শরীর ব্যথা হয় না
সর্দিতে : চোখ চুলকায় না
অ্যালার্জিতে : চোখ চুলকায় ও পানি পড়ে
চিকিৎসা
অ্যালার্জির বেশিরভাগ উপসর্গ ঘরেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
ওষুধ : সিটিরিজিন (Zyrtec), ফেক্সোফেনাডিন (Allegra) মতো অ্যান্টিহিস্টামিন নিয়মিত খেলে উপকার পাওয়া যায়। মাথাব্যথা থাকলে Tylenol জাতীয় ওষুধ কাজে আসে।
নেটি পট বা নাক ধোয়া : পরিষ্কার পানিতে নাক ধুলে ভেতরের অ্যালার্জির উপাদান বের হয়ে যায়।
নাসাল স্প্রে: Flonase বা Nasacort-এর মতো স্প্রে নাকের প্রদাহ কমায়।
অ্যালার্জি শট (ইমিউনোথেরাপি) : দীর্ঘদিনের তীব্র অ্যালার্জি হলে ডাক্তার পরামর্শ দিতে পারেন। এতে ধীরে ধীরে শরীর অ্যালার্জির সঙ্গে মানিয়ে নেয়।
প্রতিরোধের উপায়
শীতে ঘরের অ্যালার্জি কমাতে :
– বালিশ ও ম্যাট্রেসে ডাস্ট-প্রুফ কভার ব্যবহার করুন
– গরম পানিতে নিয়মিত কাপড় ও বিছানার চাদর ধুতে থাকুন
– ডিহিউমিডিফায়ার ব্যবহার করে ঘরের আর্দ্রতা ৩০-৫০% রাখুন
– HEPA ফিল্টারযুক্ত ভ্যাকুয়াম দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার করুন
– সম্ভব হলে কার্পেট বাদ দিন
– ছত্রাক দেখা গেলে ব্লিচ ও পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন
– খাবারের উচ্ছিষ্ট খোলা রাখবেন না
– কোথাও পানি লিক হলে দ্রুত ঠিক করুন
– দরজা-জানালার ফাঁক বন্ধ রাখুন
– পোষা প্রাণীকে শোবার ঘর বা রান্নাঘরে কম ঢুকতে দিন
শীতকালীন অ্যালার্জির লক্ষণ মূলত মৌসুমি অ্যালার্জির মতোই— হাঁচি , চুলকানি, ত্বকের র্যাশ, নাক বন্ধ বা নাক দিয়ে পানি পড়া। সঠিক ওষুধ, নাক পরিষ্কার রাখা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিলে শীতেও স্বস্তিতে থাকা সম্ভব।
তবে কয়েক সপ্তাহ পরও যদি উপসর্গ না কমে বা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
সূত্র : Healthline

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ । ১০:৩৫ এএম