ফরিদপুরের নগরকান্দায় একটি সুন্নতে খাৎনার অনুষ্ঠান চলাকালে চাঁদার টাকা দাবি করা নিয়ে সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে নগরকান্দা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা জিলু সরদারের পুত্র স্বপন মাহমুদের ছেলে তানভীর ইসলাম শাওনের সুন্নতে খাৎনার অনুষ্ঠান চলাকালে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, পার্শ্ববর্তী ছাগলদি গ্রামের চান মিয়ার ছেলে উসমান ও আহাদ অনুষ্ঠানস্থলে এসে চাঁদার টাকা দাবি করেন। দাবি পূরণে অস্বীকৃতি জানালে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে বাড়িঘরে ভাঙচুর করেন।
ভুক্তভোগী স্বপন মাহমুদ বলেন, “আমার ছেলের সুন্নতে খাৎনার অনুষ্ঠানে ডেকোরেটরের পক্ষের লোক পরিচয়ে উসমান ও আহাদ এসে অনুষ্ঠান পণ্ড করার হুমকি দেয়। তারা আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। আমি তা দিতে অস্বীকার করলে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। সাউন্ড বক্স ভাড়া সংক্রান্ত বিষয় থেকেই প্রথমে ঝামেলার সৃষ্টি হয়।”
স্বপন মাহমুদের বড় ভাই রিপন সরদার জানান, সাউন্ড বক্স বাজানোকে কেন্দ্র করে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা দলবল নিয়ে এসে হামলা চালায়।
এদিকে স্বপন মাহমুদের চাচী হাসি বেগম বলেন, “কিছু যুবক আমাদের অনুষ্ঠানে এসে হঠাৎ ঝামেলা শুরু করে। পরে তারা বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। আমরা এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি।”
তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। অভিযুক্ত উসমানের বড় ভাই বক্কার মিয়া বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমার ছোট ভাই ওই অনুষ্ঠানে ডেকোরেটরের কাজ করছিল। সেই সময় স্বপন মাহমুদ ও তার লোকজন আমার ভাইকে মারধর করে। পরে আমাদের ফাঁসানোর জন্য তারা নিজেরাই ভাঙচুর করেছে।”
এ বিষয়ে নগরকান্দা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তারক বিশ্বাস জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ বলেন, “সুন্নতে খাৎনার অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

শফিকুল ইসলাম জনি, নগরকান্দা:
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ । ১২:৪০ পিএম