ফরিদপুর জিলা স্কুলে নগরবাউল জেমসের কনসার্টে হট্টগোলের ঘটনায় পাঁচজন নিহত হওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। একটি ভুয়া ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে এ গুজব ছড়ান দেব দুলাল গুহ নামের এক ব্যক্তি। পরবর্তীতে সেই পোস্ট শেয়ার করে বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন ঘটনাটিকে ‘তৌহিদী জনতার তাণ্ডব’ হিসেবে উপস্থাপন করেন। এতে ভারতের কয়েকটি অখ্যাত অনলাইন পোর্টাল এবং একটি মূলধারার গণমাধ্যমেও ভুয়া তথ্য ছাপা হয়।
ফরিদপুর জিলা স্কুলের ১৮৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের শেষ দিনে রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল জনপ্রিয় শিল্পী জেমসের কনসার্ট। অনুষ্ঠান ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ থাকলেও আয়োজক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুধু স্কুলের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রবেশাধিকার ছিল বাধ্যতামূলক।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী ও আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কয়েকজন বহিরাগত যুবক দেয়াল টপকে মাঠে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি হয়। বিষয়টি বাইরে ছড়িয়ে পড়লে মাঠের বাইরে অপেক্ষমাণ কিছু দর্শক ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে।
প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হলেও নিহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কনসার্টটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয় আয়োজক কমিটি।
এই ঘটনার পরপরই শহরের শ্রী অঙ্গনের বাসিন্দা দেব দুলাল গুহ তাঁর ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, জেমস কোনোমতে প্রাণে বেঁচে পালিয়েছেন এবং কমপক্ষে পাঁচজন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। তাঁর এই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাত ১টার আগেই তসলিমা নাসরিন তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে সেটি শেয়ার করেন।
তসলিমা নাসরিন তাঁর পোস্টে ঘটনাটিকে ‘তৌহিদী জনতার হামলা’ আখ্যা দিয়ে ছায়ানট ও উদীচীর সঙ্গে তুলনা করেন এবং বাংলাদেশে সংস্কৃতি চর্চা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে—এমন বক্তব্য দেন।
এই পোস্টকে কেন্দ্র করে ভারতের কিছু অখ্যাত অনলাইন পোর্টাল ছাড়াও ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা’ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে বাংলাদেশে মৌলবাদী শক্তির উত্থান এবং সংস্কৃতি চর্চায় বাধার অভিযোগ তোলা হয়।
তবে ফরিদপুর জিলা স্কুল কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—নিহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। একটি বিচ্ছিন্ন ও নিয়ন্ত্রণহীন হট্টগোলকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়িয়ে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যাচাই-বাছাই ছাড়াই একটি ফেসবুক পোস্টকে ‘সূত্র’ বানিয়ে ভিনদেশি মিডিয়া যে সংবাদ পরিবেশন করেছে, তা সাংবাদিকতার ন্যূনতম নীতিমালারও পরিপন্থী।

হারুন আনসারী, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ । ১২:৫৮ পিএম