সোমবার ফরিদপুরের নগরকান্দার লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েছিলাম জন্ম নিবন্ধন সংক্রান্ত একটি সাধারণ কাজের জন্য। আবেদনটি আগেই অনলাইনে সম্পন্ন করা ছিল। ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ার একমাত্র কারণ ছিল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অনলাইনে এক ক্লিক অনুমোদন নেওয়া—যা কয়েক মিনিটেই শেষ হওয়ার কথা।
কিন্তু সেখানে গিয়ে জানানো হয়, জন্ম নিবন্ধনের কাজ আজ সারাদিন বন্ধ। কারণ? ইউনিয়ন পরিষদের ওয়েব পোর্টালে লগইনের জন্য যে OTP প্রয়োজন, সেটি চেয়ারম্যান “দিতে পারবেন না”। এমনকি OTP-এর জন্য তাঁকে ফোন দেওয়াও নিষেধ করা হয়েছে। কোনো নোটিশ নেই, নেই কোনো লিখিত ব্যাখ্যা, নেই কোনো বিকল্প ব্যবস্থা।
প্রশ্ন হচ্ছে—জন্ম নিবন্ধন কি কোনো ব্যক্তির ইচ্ছাধীন বিষয়? রাষ্ট্রীয় একটি নাগরিক সেবা কি এভাবে একক সিদ্ধান্তে বন্ধ রাখা যায়?
সমস্যা যদি সার্ভারজনিত হতো, তাহলে সেটি সহজেই মেনে নেওয়া যেত। কিন্তু বাস্তবতা হলো—সিস্টেম সচল ছিল। কাজ বন্ধ ছিল কেবল প্রশাসনিক গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার কারণে।
সমাধানের আশায় সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে একাধিকবার ফোন করা হয়। ভেবেছিলাম, তিনি ব্যস্ত আছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কোনো সাড়া মেলেনি। ফোন ধরেননি, কোনো ব্যাখ্যাও দেননি।
এতে স্বাভাবিকভাবেই কিছু গুরুতর প্রশ্ন সামনে আসে—
কোন আইনে বা কোন ক্ষমতায় কোনো ইউনিয়ন পরিষদ নাগরিক সেবা বন্ধ রাখে?
একজন জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতির কারণে রাষ্ট্রীয় সেবা কেন থেমে যাবে?
নাগরিক হয়রানির দায় কার?
এই অব্যবস্থাপনার জবাব কে দেবে?
দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—এই প্রশ্নগুলোর কোনো উত্তর নেই।
কেবল নীরবতা, অবহেলা এবং দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা।
জন্ম নিবন্ধন একটি মৌলিক নাগরিক অধিকার। এটি শিক্ষা, চিকিৎসা, ভোটাধিকারসহ বহু নাগরিক সেবার ভিত্তি। সেই সেবাকে ইচ্ছামতো বন্ধ রেখে সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন ইউনিয়ন পরিষদের চক্কর কাটতে বাধ্য করা—এটি কেবল অদক্ষতা নয়, এটি সরাসরি নাগরিক অধিকারের লঙ্ঘন।
আমরা কেউ দয়া চাইতে যাইনি।
আমরা রাষ্ট্রের কাছে আমাদের ন্যায্য অধিকার চাইতে গিয়েছিলাম।
এই লেখার মাধ্যমে লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধন সেবায় চলমান অব্যবস্থাপনা, দায়িত্বহীনতা ও নাগরিক হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা দাবি করছি।
— একজন ভুক্তভোগী নাগরিক
ফরিদপুর প্রতিদিনের সম্পাদকীয় নোট:
লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের জন্ম নিবন্ধন সংক্রান্ত এই অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জন্ম নিবন্ধন একটি সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় নাগরিক সেবা—যা কোনো ব্যক্তি বা জনপ্রতিনিধির ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল হতে পারে না।
একজন চেয়ারম্যান OTP “দিতে পারবেন না”—এই অজুহাতে পুরো দিন নাগরিক সেবা বন্ধ রাখা আইন, প্রশাসনিক বিধি ও সুশাসনের চরম লঙ্ঘন। জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতি বা অনাগ্রহ কোনোভাবেই নাগরিক সেবা স্থগিতের বৈধ কারণ হতে পারে না।
এই ঘটনায় স্থানীয় সরকার বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে জন্ম নিবন্ধনসহ ডিজিটাল সেবা কার্যক্রমে কেন বিকল্প দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নেই—সে প্রশ্নেরও জবাব দিতে হবে।
নাগরিক সেবা কোনো অনুগ্রহ নয়। এটি রাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতা।
এই ধরনের দায়িত্বহীনতা ও প্রশাসনিক অবহেলা চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের আস্থা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার ওপর মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে—যার দায় এড়ানোর সুযোগ কারও নেই।
পাঠকের লেখা

সাইফুল্লাহ আল নাসিম
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ । ৮:৪০ পিএম